শ্রীনগর: গত পাঁচ দিনে অন্তত চারবার! পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর হামলায় জড়িত জঙ্গিদের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল নিরাপত্তা বাহিনী। একবার দু’পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ও হয়েছে। তবে সোমবার রাত পর্যন্ত ওই জঙ্গিদের নাগাল পাননি বাহিনীর সদস্যরা। দক্ষিণ কাশ্মীরের জঙ্গলে ওই জঙ্গিদের খুঁজে বের করতে চিরুনি তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যে কোনও মুহূর্তে তাদের ঘিরে ফেলা সম্ভব হবে বলে সেনা আধিকারিকরা জানাচ্ছে। জঙ্গিরা ঘন জঙ্গলে লুকিয়ে থাকায় তাদের খুঁজে বের করতে সমস্যা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। এক সেনা আধিকারিকের বক্তব্য, ‘এটা এখন ইঁদুর-বিড়ালের খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিছু মুহূর্তের জন্য জঙ্গিদের খালি চোখে দেখাও গিয়েছে। কিন্তু কাছে পৌঁছানোর আগেই তারা পালিয়ে যায়। কাউকে দেখতে পেলেও ঘন জঙ্গলের মধ্যে তাকে তাড়া করা সহজ নয়। কিন্তু আমরা ওদের ধরেই ছাড়ব। এটা শুধু সময়ের অপেক্ষা।’
পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় জঙ্গিদের গুলিতে
২৬ পর্যটকের মৃত্যুর পরেই ভারতীয় সেনা, সিআরপিএফ এবং জম্মু ও কাশ্মীরের
যৌথবাহিনী পহেলগাঁওয়ের আশপাশের সব জঙ্গলে অভিযান শুরু করেছে। স্থানীয়
বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য ও গোয়েন্দাদের দেওয়া ‘ইনপুটে’র ভিত্তিতেই বিভিন্ন
জায়গায় হানা দিচ্ছে যৌথবাহিনী। সূত্রের খবর, জঙ্গিদের প্রথম দেখা যায়
অন্ততনাগের হাপাত নার গ্রাম সংলগ্ন জঙ্গলে। কিন্তু কাছে পৌঁছানোর আগেই
পাহাড়ি জঙ্গলে হারিয়ে যায় তারা। এরপর কুলগাঁওয়ের কাছে জঙ্গলে ফের সন্ধান
মেলে জঙ্গিদের। সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে তাদের গুলি বিনিময়ও হয়।
এরপর ত্রাল ও কোকেরনাগে জঙ্গিদের সন্ধান মিলেছিল। এক সেনা কর্তা জানান, চার
জঙ্গি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তাদের জায়গা পাল্টাচ্ছে। সাধারণত জঙ্গলে
খাবার ও অন্য জিনিসের জন্য স্থানীয় যোগাযোগকে কাজে লাগায় জঙ্গিরা। এর ফলে
গ্রামবাসীদের থেকে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। যার সূত্র ধরে
জঙ্গিদের সন্ধান পাওয়া সহজ হয়।
ওই কর্তা জানান, এক্ষেত্রে অন্য পথ
নিয়েছে চার জঙ্গি। দিন কয়েক আগে রাতের খাবারের জন্য একটি বাড়িতে গিয়েছিল
তারা। কিন্তু সেখানে বসে খাওয়ার বদলে খাবার নিয়ে পালিয়ে যায় জঙ্গিরা। ফলে
সেখানে নিরাপত্তা বাহিনী পৌঁছালেও লাভ হয়নি। এছাড়া এবার পহেলগাঁওয়ের উঁচু
জায়গায় তুষারপাত কম হয়েছে। ফলে জঙ্গিরা দক্ষিণ কাশ্মীর থেকে জম্মুর দিকে
পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে বলে সন্দেহ। জম্মুর দিকের জঙ্গল আরও ঘন হওয়ার
কারণে তাদের খুঁজে বের করা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। তবে এখনও তারা
দক্ষিণ কাশ্মীরেই রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন