কলকাতা: আইএসএলের রং এবার সবুজ-মেরুন। রেফারির শেষ বাঁশির পর উত্তাল যুবভারতী দেখে মন ভরে যাচ্ছিল। আইএসএল লিগ-শিল্ডের পর কাপ জয় হোসে মোলিনা ব্রিগেডের। গোটা মরশুম মন ভরানো ফুটবল উপহার দিয়েছে কামিংস-ম্যাকলারেনরা। মোহন বাগান কেন ভারতসেরা তা শনিবার খেতাবি লড়াইয়ে আরও একবার প্রমাণিত। ফাইনালে পিছিয়ে পড়ে জেতা মোটেই মুখের কথা নয়। আর প্রতিপক্ষ টিমটার নাম যখন বেঙ্গালুরু এফসি। কিন্তু সবুজ-মেরুন ব্রিগেড তা করে দেখাল। এর জন্য কৃতিত্ব প্রাপ্য কোচ হোসে মোলিনার। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কোলাসোকে তুলে কুরুনিয়ানকে নামানোই মাস্টারস্ট্রোক। বলতে দ্বিধা নেই এই স্প্যানিশ কোচের মগজাস্ত্রেই ফিনিশ বাগিচার শহর।
ফাইনালে প্রথমার্ধটা ছিল বেঙ্গালুরুর এফসি’র নামে। যুবভারতীর বিপক্ষ সমর্থকে ঠাসা গ্যালারির চাপ সামলেও দাপুটে ফুটবল মেলে ধরে নোগুয়েরারা। আলাদা করে উল্লেখ করতে হবে উইঙ্গার রায়ান উইলিয়ামসের কথা। ডান দিক থেকে ভয়ঙ্কর সব ক্রস বাড়াচ্ছিল। প্রথম গোলটাতেই তার মুখ্য ভূমিকা। তবে আলবার্তোর থেকে এমন আত্মঘাতী গোল আশা করা যায় না। আসলে বলটা না বুঝেই পা বাড়িয়ে দিয়েছিল। তারই খেসারত দিতে হল। তবে প্রশংসা করতে হবে বিশাল কাইথের। এই পর্বে ও দুরন্ত কয়েকটা সেভ না করলে মোহন বাগান আরও বিপদে পড়ত। তবে মোলিনা ধুরন্ধর কোচ। ম্যাচের মোড় কীভাবে ঘোরাতে হয় তা দ্বিতীয়ার্ধে দেখিয়ে দিলেন। এদিন তাঁর প্রতিটি পরিবর্তন কার্যকরী হয়েছে। সেই জায়গা বেঙ্গালুরু কোচের সুনীলকে ১২০ মিনিট মাঠে রাখার সিদ্ধান্তটা আমায় অবাক করেছে।
৬২ মিনিটে লিস্টনের পরিবর্তে আশিককে মাঠে নামানোটাই ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট। গোয়ানিজ উইঙ্গারের কোয়ালিটি নিয়ে সংশয়ের অবকাশ নেই। তবে ফাইনালে লিস্টনকে বেশ বিবর্ণ দেখাচ্ছিল। তাঁর পরিবর্তে আশিক নামতেই মোহন বাগানের আক্রমণে ধার বাড়ে। বাঁ-প্রান্ত থেকে চাপ বাড়তেই দিশাহারা দেখায় বেঙ্গালুরুকে। কামিংসের কথাও উল্লেখ করতে হবে। গতবার আমরা স্ট্রাইকার কামিংসকে দেখেছিলাম। এবার দেখলাম, ফিডারের ভূমিকাতেও ও একইরকম সফল। প্রথম গোলটা তো ওর প্রচেষ্টারই ফসল। বাঁ দিক থেকে মাপা ক্রস বক্সে খুঁজে নেয় ম্যাকলারেনকে। তবে অজি তারকার শট হাতে লাগিয়ে মারাত্মক ভুল করে ফেলল বিপক্ষ ডিফেন্ডার। আর স্পটকিক থেকে সচরাচর লক্ষ্যভেদে ভুল হয় না এই অজি তারকার। তবে গোল করার পরও কামিংসকে তুলে স্টুয়ার্টকে নামালেন মোলিনা। এটা খুবই সাহসী সিদ্ধান্ত। আসলে তখন ফ্রেশ লেগের প্রয়োজন ছিল। সংযোজিত সময়ে স্টুয়ার্ট-ম্যাকলারেন জুটিই জয় এনে দিল মোহন বাগানকে। স্কটিশ মিডিও পাসটা দারুণ বাড়িয়েছিল।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন