নয়াদিল্লি: ‘এক দেশ এক নির্বাচন’ বিল সংক্রান্ত যৌথ সংসদীয় কমিটিতে মোদি সরকারকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করালেন তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। নতুন বিলে বলা আছে, মেয়াদ শেষের আগে সরকার পড়ে গেলে (লোকসভা বা বিধানসভা) ভোট হবে। এবং নতুন সরকারের মেয়াদ হবে আগের বাকি থাকা সময়টুকুর জন্য। পরবর্তী পাঁচ বছরের জন্য নয়।
আর এখানেই প্রশ্ন তুলে কল্যাণের সওয়াল, ‘মানুষ পাঁচ বছরের জন্য প্রধানমন্ত্রী বা মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করতে ভোট দেয়। তাই সরকার যদি মেয়াদ শেষে আগে পড়েও যায়, তাহলে ফের বাকি থাকা সময়ের জন্য কেন হবে ভোট? নির্বাচন তো শেষ উপায়। কেন বিরোধীদের সরকার গড়তে ডাকবেন না রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল? গণতন্ত্রে বিরোধীদেরও তো একটা বড় ভূমিকা আছে।’ কল্যাণবাবুর এই কথা শুনে কমিটির চেয়ারম্যান বিজেপির পি পি চৌধুরীও চুপ করে যান। বৈঠকে উপস্থিত কংগ্রেসের মুকুল ওয়াসনিক, রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা, এনসিপি (এসপি)র সুপ্রিয়া সুলের মতো ‘ইন্ডিয়া’ জোটের সদস্যরা তো বটেই, এমনকী বিজেপির সিংহভাগ সদস্যও সমর্থন করেন ।
এক দেশ এক নির্বাচন সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এদিন বিশিষ্টদের মতামত জানতে ডাকা হয়। সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি হেমন্ত গুপ্তা, জম্মু-কাশ্মীর হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এস এন ঝা, সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি তথা ২১ তম ল’ কমিশনের চেয়ারম্যান বি এস চৌহান এবং বিশিষ্ট আইনজীবী হিসেবে অভিষেক মনু সিংভিকে ডাকা হয়েছিল। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর, প্রাক্তন তিন বিচারপতিই বিলের পক্ষে মত দেন। কমিটির বৈঠকে সিংভি বলেন, ‘বলতে দ্বিধা নেই অনেক বছর আগে আমিও এক দেশ এক নির্বাচনের ভাবনাকে সমর্থন করেছিলাম। কিন্তু পরে বিষয়টি গভীরভাবে দেখতে গিয়ে আমার মত, এটি একটি সাংবিধানিক বিল। যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় হস্তক্ষেপ। মানুষের অধিকারকে অপমান। কেনই বা মাঝপথে সরকার পড়ে গেল ডাকা হবে না বিরোধীদের?’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন