মুর্শিদাবাদ : ধুলিয়ান ও কলকাতা: মুর্শিদাবাদে হিংসার নেপথ্যে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই এবং বাংলাদেশি জঙ্গিগোষ্ঠী! ঘটনার পোস্ট মর্টেম করে এমনই তথ্য হাতে আসছে গোয়েন্দাদের। তাঁরা বলছেন, এই অশান্তির পিছনে নির্দিষ্ট প্ল্যানিং ছিল। ওয়াকফ আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সমাবেশে উস্কানি দিয়ে এবং ছাত্রদের বেশে সীমান্তের ওপার থেকে অনুপ্রবেশকারী অল্পবয়সিদের ঢুকিয়ে এমন কাণ্ড ঘটানো হয়েছে। সূত্রের খবর, সেই কট্টরপন্থী ‘বহিরাগত’দের ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা গিয়েছে।
গোয়েন্দাদের দাবি, সম্প্রতি ঢাকায় যে কায়দায় লুটপাট-খুন, পুলিসকে আক্রমণ করা হয়, তার ছায়াই সামশেরগঞ্জ, সূতি, রঘুনাথগঞ্জ, ধুলিয়ানে দেখা গিয়েছে। হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশে আইএসআই এজেন্টদের আনাগোনা বেড়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ এসেছে। তারা সীমান্ত এলাকায় ‘প্রশিক্ষণ’ দিচ্ছে বলে খবর। তাদেরই প্রশিক্ষণে অশান্তিতে হাত পাকানো তরুণদের মদত মুর্শিদাবাদে থাকতে পারে বলে খবর। কারা তারা? জঙ্গি সংগঠন এবিটি’র পরিচালনায় চলা অনুমোদনহীন বা খারিজি মাদ্রাসার ‘প্রোডাক্ট’। অধিকাংশেরই বয়স ১৮ বছরের মধ্যে।
ওয়াকফ সংশোধনী আইন সংখ্যালঘুদের কাছে কতটা ক্ষতিকর, সে নিয়ে দিনের পর দিন ক্লাস নেওয়া হয়েছে তাদের। হাতিয়ার করা হয়েছে ভারত তথা বাংলার অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বিগড়ে দেওয়ার ‘প্ল্যানে’। গোয়েন্দারা বলছেন, শতাধিক এমন যুবককে মগজ ধোলাইয়ের পর কয়েক মাস ধরে অনুপ্রবেশ করানো হয়েছে বাংলায়। মুর্শিদাবাদ সীমান্তের কিছু খারিজি মাদ্রাসাকে ‘আশ্রয়ে’র জন্য বেছে নিয়েছিল তারা। তাদের মধ্যে জনা কুড়ি নেতা। অর্থাৎ, অশান্তির প্ল্যান তারা করবে। বাকিরা প্রয়োগ। অনুপ্রবেশের জন্য সূতির কাছের সীমান্ত ব্যবহার হয়েছে। তবে এত বাংলাদেশি ঢুকে পড়ল, অথচ সীমান্তরক্ষী বাহিনী জানতে পারল না কেন, সেই প্রশ্ন উঠছে।
জানা যাচ্ছে, হিংসা ছড়ানোর জন্য ফরাক্কা, সামশেরগঞ্জ, ধুলিয়ান, লালগোলা এলাকা বেছে নিয়েছিল কট্টরপন্থীরা। দফায় দফায় বৈঠক এবং প্ল্যান হয়েছে কিছু অনুমোদনহীন মাদ্রাসায়। সেখানেই ঠিক হয়, টার্গেট করতে হবে পুলিসকে। নিরাপত্তা বাহিনীর উপর হামলা চালালে এলাকার দখল নেওয়া সহজ হবে। পুলিসকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলতে হবে। যাতে তাদের পালানোর পথ না থাকে। দেখতে হবে, আক্রমণকারীর সংখ্যা যেন সবসময় পুলিস ফোর্সের থেকে বেশি থাকে। সেই ব্লু-প্রিন্ট মতোই হামলা হয়েছে জঙ্গিপুর মহকুমার রঘুনাথগঞ্জে।
এর নেপথ্যচারীদের চিহ্নিত করার কাজ শুরু করে দিয়েছে পুলিস। স্থানীয় পুলিসের দাবি, যারা এই হামলার প্রথম সারিতে ছিল, তাদের অধিকাংশকেই এলাকার কেউ চেনে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা পথে নেমে এই তাণ্ডব রোখার চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হন। কারণ, যারা আন্দোলনের সামনে থেকে হিংসা ছড়িয়েছে, তাদের এই এলাকায় আগে কখনও দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষের প্রতিবাদে অংশ নিয়ে এরাই প্রথম তাণ্ডব শুরু করে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন