নয়াদিল্লি: দুই কক্ষে একই ছবি। পরপর দু’দিন ম্যারাথন বিতর্ক। গভীর রাতে ভোটাভুটি। বুধবার লোকসভার পর বৃহস্পতিবার রাজ্যসভাতেও পাশ হয়েছে ওয়াকফ সংশোধনী বিল। বাকি শুধু রাষ্ট্রপতির সই। যদিও প্রস্তাবিত এই আইন ঠেকাতে শুক্রবারই বিরোধী শিবির থেকে দুই সাংসদ সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলেন। তাঁদের অভিযোগ, সংসদে পাশ হওয়া এই বিল ‘মুসলিমদের প্রতি বৈষম্যমূলক’।
এদিন কংগ্রেসের এমপি মহম্মদ জাভেদ এবং এআইএমআইএম সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি পৃথক আবেদন পেশ করেছেন শীর্ষ আদালতে। আর এরই মধ্যে ওয়াকফ বিলকে সমর্থন জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে বিজেপির শরিক নীতীশ কুমারের জেডিইউয়ে বিদ্রোহ ক্রমেই বাড়ছে। প্রতিবাদ হিসেবে এখনও পর্যন্ত মোট পাঁচজন নেতা ইস্তফা দিলেন। পদত্যাগী নেতাদের নামের তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন নাদিম আখতার। তাঁর আগে জেডিইউ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন রাজু নায়ার, তবরেজ সিদ্দিকি, মহম্মদ শাহনওয়াজ মালিক ও মহম্মদ কাসিম আনসারি।
বিরোধী শিবির থেকে সুপ্রিম কোর্টে পেশ হওয়া আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রস্তাবিত আইনটিতে মুসলিমদের মৌলিক অধিকারগুলিকে লঙ্ঘন করা হয়েছে। কংগ্রেস সাংসদ জাভেদ তাঁর পিটিশনে বলেছেন, মোদি সরকারের এই বিল সংবিধানের ১৪ ধারার (সাম্যের অধিকার) পরিপন্থী। একই সঙ্গে ২৫ ও ২৬ ধারায় ধর্মাচার পালনের অধিকার, ২৯ ধারায় সংখ্যালঘু অধিকার ও ৩০০এ ধারায় সম্পত্তির অধিকারকেও লঙ্ঘন করছে।
ওয়াকফ বিল ইস্যুতে এদিন সুর চড়িয়েছেন রাজ্যসভার সদস্য অভিষেক মনু সিংভি। মোদি সরকারকে তাঁর তোপ, সংখ্যাগরিষ্ঠতার অপব্যবহার করে ওরা বিলটি চাপিয়ে দিয়েছে। বিলটিকে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানো হলে সেটি অসাংবিধানিক বলে খারিজ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। ডিএমকে সাংসদ এম এম আবদুল্লার কটাক্ষ, সংখ্যালঘু ও গণতন্ত্রের জন্য কালো দিন। সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রামজিলাল সুমনের তোপ, সরকারের হাতে সংখ্যা থাকায় বিলটি পাশ
হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ওদের উদ্দেশ্য সঠিক নয়।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন