বর্ধমান: ২০২৬
সালে বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার হতে বিজেপি’র মূল অস্ত্র করেছে
হিন্দুত্বকে। গেরুয়া ধ্বজা তুলে তারা এগিয়ে যেতে চাইছে। কিন্তু রাজ্যের
প্রায় ১০ হাজার হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ বুথেই বিজেপি এখনও কমিটি গঠন করতে
পারেনি। সব থেকে খারাপ অবস্থা দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে। পূর্ব বর্ধমান ও
বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে এখনও বহু বুথে তৃণমূল একা দাপট দেখাচ্ছে। কয়েক
দিন আগে বিজেপির বৈঠকে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে,
মুসলিম অধ্যুষিত গ্রামগুলিতে বিজেপি কোনও দিনই মাথা তুলতে পারেনি। এই
বুথগুলিতে কমিটি নিয়ে তাঁদের তেমন মাথাব্যথা নেই। কিন্তু হিন্দু প্রভাবিত
বুথগুলি ফাঁকা থাকায় তাঁদের ঘুম উড়ে গিয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব প্রতিটি
বুথে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। একসময় জেলার নেতারা খাতা কলমে ভুয়ো বুথ
কমিটি তৈরি করেছিল। লোকসভা নির্বাচনে ময়দানে নেমে বিজেপি প্রার্থী দিলীপ
ঘোষ তা হাতেনাতে প্রমাণ পেয়েছিলেন। তিনি তা নিয়ে দলের অন্দরে ক্ষোভ
প্রকাশ করেন। তারপরই রাজ্য নেতৃত্ব প্রতিটি জেলা নেতৃত্বকে জানিয়ে দিয়েছে,
খাতা-কলমে নয়, বাস্তবে বুথ কমিটি থাকতে হবে। প্রয়োজনে রাজ্য নেতৃত্ব বুথে
গিয়ে তা পরীক্ষা করবেন। এছাড়া বুথ কমিটির নেতাদের সঙ্গে সরাসরি ফোনে কথা
বলে সত্যতা যাচাই করা হবে। তাতেই বিজেপি নেতৃত্ব বেকায়দায় পড়ে গিয়েছে।
তাঁরা এবার আর ‘জল মেশানো’ কমিটি তৈরি করতে পারেনি। দলের এক নেতা বলেন,
দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে সব থেকে খারাপ অবস্থা পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ,
বীরভূমের মতো জেলাগুলিতে। বুথ কমিটি না থাকলে ময়দানে লড়াই করা সম্ভব হবে
না। বহু বুথে কমিটি না থাকলেও সমর্থক রয়েছে। কিন্তু তাঁদেরকে ভোট কেন্দ্রে
নিয়ে যাওয়ার মতো নেতা দরকার। সেটা না থাকলে শাসক দল একা দাপট দেখাবে।
তাছাড়া বুথে সমর্থক বাড়ানোর জন্যও নেতা দরকার। বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে শাসক
দলের ব্যর্থতার দিকগুলি তুলে ধরতে না পারলে টক্কর দেওয়া সম্ভব নয়। তবে
উত্তরবঙ্গে হিন্দু প্রভাবিত বুথগুলিতে সংগঠন রয়েছে। প্রতিটি বুথে কম পক্ষে
১০ থেকে ১২জনের কমিটি রয়েছে। কিন্তু দক্ষিণবঙ্গের বহু বুথে কমিটি গঠনের
জন্য গেরুয়া শিবির পাঁচ থেকে ছ’জন নেতাও পায়নি। বুথস্তরে কাজ করার জন্য
অনেকেই দায়িত্ব নিতে চাইছে না। ২০২১ সালের তিক্ত অভিজ্ঞতা অনেকেরই রয়েছে।
সেইসময় নেতারা কর্মীদের পাশে থাকলে এই অবস্থা তৈরি হতো না। পূর্ব
বর্ধমানের প্রবীণ বিজেপি নেতা নরেশ কোনার বলেন, যোগ্যদের মর্যাদা দিয়ে
পদে বসাতে হবে। তা নাহলে এই অবস্থা চলতে থাকবে। নেতাদের আন্দোলন শহরে
সীমাবদ্ধ থাকছে। গ্রামে গিয়ে সংগঠন তৈরি করার প্রতি নেতৃত্বের ঝোঁক নেই।
সেই কারণেই সব বুথে কমিটি গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন