নয়াদিল্লি: বেলজিয়ামের প্রায় চার বছর আগে আরও একবার হাজতবাস করতে হয়েছিল মেহুল চোকসিকে। ২০২১ সালে অনুপ্রবেশের অভিযোগে ডমিনিক রিপাবলিকে গ্রেপ্তার হন তিনি। যদিও পলাতক হীরে ব্যবসায়ীর অভিযোগ করেন, ভারতীয় এজেন্টরা তাঁকে জোর করে অ্যান্টিগা থেকে দেশে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। সেই কারণেই হাঙ্গেরির এক লাস্যময়ীর মাধ্যমে হানিট্র্যাপ করে ‘অপহরণ’ করা হয় চোকসিকে। তারপর জলপথে নিয়ে আসা হয় ডমিনিক রিপাবলিকে। সেই সময় অত্যাচারও করা হয়েছিল এই হীরে ব্যবসায়ীকে।
কীভাবে
‘অপহরণ’ করা হয়েছিল গীতাঞ্জলি জুয়েলার্স গোষ্ঠীর প্রধানকে? এই ঘটনায় সামনে
আসে হাঙ্গেরির বাসিন্দা এক লাস্যময়ীর নাম— বারবারা জাবরিকা। মেহুল চোকসির
স্ত্রী প্রীতির অভিযোগ, ২০২০ সালে এই মহিলার মাধ্যমেই হানিট্রাপের
পরিকল্পনা করা হয়েছিল। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেন বারবারা। সাফ জানান,
‘আমাকে চোকসির ‘বান্ধবী’ বলা হচ্ছে। কিন্তু তা সঠিক নয়। আমার নিজের ব্যবসা
আছে। ওঁর (মেহুল চোকসি) টাকা, নকল গয়না বা অন্য কোনও কিছুর প্রয়োজন নেই।’
উল্টে বারবারা দাবি করেন, ২০২০ সালের আগস্ট মাসে নিজেকে রাজ বলে পরিচয় দিয়ে
তাঁর সঙ্গে বন্ধুত্ব করেন চোকসি। ফোন নম্বরও চান। শুধু তাই নয়, বারবারাকে
নিয়ে চোকসি কিউবা যাওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলেও জানান তিনি।
পলাতক
হীরে ব্যবসায়ী অবশ্য যাবতীয় অভিযোগ নস্যাৎ করে দেন। দাবি করেন, অ্যান্টিগা
থেকে ডমিনিক রিপাবলিকে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে মারধর করা হয়েছিল। বারবারা
সেখানে থাকলেও একবারের জন্যও বাধা দেয়নি। উল্টে হাবভাব দেখে মনে হচ্ছিল যেন
গোটা পরিকল্পনার সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ যোগ রয়েছে তাঁর। স্বামীর সুরে সুর
মিলিয়ে বারবারাকে বেঁধেন প্রীতিও। বলেন, মেহুল যে রাজ নন, তা বিলক্ষণ
জানতেন হাঙ্গেরির ওই বাসিন্দা। যখন এতকিছু হচ্ছে, তখন একবারের জন্যও নিজের
বন্ধুর সমর্থনে মুখ খোলেননি তিনি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন