কলকাতা: সকাল থেকে রোদ ঝলমলে আকাশ। কিন্তু বেলা তিনটের পর চোখের পলকে পাল্টে গেল কলকাতা, শহরতলির আকাশের চেহারা। লহমায় রোদ গেল অতীত হয়ে। দিগন্তজুড়ে কালো মেঘের ঘনঘটা। তারপর বিকেল গড়াতেই তুমুল বৃষ্টি। বিদ্যুতের ঝলকানি চমকে দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার
কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলির বিস্তীর্ণ অঞ্চলে
দফায় দফায় ভারী বৃষ্টি। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। বিভিন্ন এলাকা থেকে বাজ পড়ারও
খবর এল। তার হাত ধরে জনজীবন বিপর্যস্ত। ভোগান্তি পোহাতে হল অফিস ফেরত
যাত্রীদের। বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটল। এয়ারপোর্ট অথরিটি সূত্রে খবর,
ঝড়-বৃষ্টির কারণে ছ’টি বিমান কলকাতায় অবতরণই করতে পারেনি। অন্য শহরে চলে
যেতে হয়েছে সেগুলিকে।
কলকাতা পুরসভার নিকাশি বিভাগের হিসেব অনুযায়ী,
বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে পূর্ব কলকাতায়। ধাপা এবং উল্টোডাঙা পাম্পিং স্টেশন
জোনে সবথেকে বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়। ৫০ মিমিরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে এই
অঞ্চলে। পাশাপাশি শহরের সর্বত্রই কমবেশি ভারী বৃষ্টিপাত। বিক্ষিপ্তভাবে জলও
জমে শহরের একাদিক এলাকায়। বৃষ্টির জেরে বাড়ি ফেরার পথে সমস্যায় পড়তে হয়
মানুষকে। শহরের কিছু রাস্তায় যান চলাচলের গতি কমে যায়। বেন্টিঙ্ক স্ট্রিট
ও যোধপুর পার্কে গাছ ভেঙে পড়ে। যোধপুর পার্ক বাজারের উল্টোদিকে নামকরা এক
চিকিৎসকের গাড়ি বাড়ির সামনে পার্ক করা ছিল। একটি বড় কৃষ্ণচূড়া গাছ গাড়িটির
উপর ভেঙে পড়ে। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার গাছ কাটানোর ব্যবস্থা করেন।
অন্যদিকে
কলকাতার পাশের শহর হাওড়াতেও দমকা হাওয়ায় গাছের ডাল ভেঙে জখম হওয়ার ঘটনা
ঘটেছে। ডুমুরজলা রিং রোডে একটি বড় গাছের নীচে দাঁড়িয়ে ছিলেন পঞ্চাননতলার
বাসিন্দা সুকন্যা দত্ত ও শুভ্রজিৎ মাইতি। আচমকা গাছের একটি ডাল তাঁদের উপর
ভেঙে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দু’জনকে উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে
নিয়ে যান। পরে তাঁদের কলকাতার এসএসকেএমে নিয়ে আসা হয়। এই জেলার পাশাপাশি
বারাসত সহ উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। সঙ্গে ছিল
ঝোড়ো হাওয়ার দাপট। এছাড়া দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন এলাকাতেও ভারী বৃষ্টি ও
দমকা হাওয়া। সঙ্গে ঘনঘন বাজ পড়ার ঘটনা।
ভারী বর্ষণে বারুইপুরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়ে পড়ে। ডায়মন্ডহারবার, কাকদ্বীপের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রবল ঝোড়ো হাওয়া সঙ্গে ঘনঘন বাজ পড়েছে। এ সময় বরো ধান চাষ হয়। এখন ফসল তোলার সময়। বৃষ্টির জেরে ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। পাশাপাশি হুগলির চন্দননগর, চুঁচুড়া, ভদ্রেশ্বর, শ্রীরামপুর, ব্যান্ডেল সহ বিভিন্ন এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। সঙ্গে ছিল দমকা হাওয়া। বেশ কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকে বিভিন্ন এলাকা। চুঁচুড়া, ব্যান্ডেলে শিলাবৃষ্টি হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন