নয়াদিল্লি: থাইল্যান্ডে বিমস্টেক সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখার উপর জোর দিয়েছিলেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মহম্মদ ইউনুস। সবটাই মুখে। কারণ, আদতে অন্য কৌশলও নিচ্ছেন তিনি। চীনের মদতে ভারতের নাকের ডগায় নতুন এয়ার ফোর্স বেস তৈরিতে হাত লাগিয়েছে বাংলাদেশ। আর সেই ঘাঁটি হচ্ছে কোচবিহার-শিলিগুড়ি করিডরের কাছে লালমনিরহাটে। চীনের মদতে। চীনের কাছে এই ‘আবেদন’ পৌঁছে দিয়েছে তারা। শুধু বিমানঘাঁটি নয়, একইসঙ্গে ওই অঞ্চলকে কেন্দ্র করে একঝাঁক লগ্নির আগ্রহ দেখিয়েছে চীন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইউনুস সরকার সেই প্রস্তাবে রাজি। কেন? ভারতের বিদেশ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রক মনে করছে, এটা পুরোটাই কূটনৈতিক চাপ দেওয়ার প্রয়াস। লালমনিরহাটের ঠিক উল্টোদিকে কোচবিহার। আর অন্যদিকে মেঘালয়। অবস্থানগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘চিকেন নেক’ সরাসরি পড়ে যাচ্ছে বন্দুকের নলের সামনে। এই বার্তা পেয়ে নয়াদিল্লিও কিন্তু প্রত্যাঘাতে তৈরি। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, ভারত হাসিমারা এয়ারবেসকে আরও শক্তিশালী করতে চলেছে। বস্তুত উত্তরবঙ্গ এবং বিশেষ করে শিলিগুড়িকে যে চীন টার্গেট করছে, তার হাতে গরম প্রমাণ এই নতুন প্রস্তাব। তাই প্রতিরক্ষা মন্ত্রক গত ৪৮ ঘণ্টায় একাধিক বৈঠক করেছে। ভারতীয় বায়ুসেনা যেমন হাসিমারা, সিকিম এবং অরুণাচল প্রদেশে আরও বেশি মাত্রায় শক্তিবৃদ্ধি করছে, তেমনই এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও মোতায়েন করা হয়েছে। ভারত জানতে পারছে যে, শিলিগুড়ি করিডর থেকে মাত্র ২৫ কিমি দূরত্বে এয়ার বেস নির্মাণের বরাতও নাকি দেওয়া হবে পাকিস্তানের কোম্পানিকে। নামে পাকিস্তানি, আদতে চীনেরই শ্যাডো সংস্থা।
মানেটা পরিষ্কার—চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ একটি অক্ষ হিসেবেই কাজ করছে। এবং এই বার্তা ভারতকে সুকৌশলে পৌঁছেও দেওয়া হচ্ছে। তিনটি পড়শি দেশ যদি এভাবে ভারতকে কৌশলগত দিক থেকে ঘিরে ধরে, তাহলে তাকে ‘চক্রান্ত’ ছাড়া অন্য কিছু বলা যায় না। আর সেটাই ভাবছে নয়াদিল্লি। সেই কারণেই উত্তরবঙ্গ এবং সিকিমে ভারতের বায়ুসেনা নতুন এয়ার বেস নির্মাণের কথাও ভাবছে। রাফালের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন