নয়াদিল্লি: ২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী তাহাউর রানাকে ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে আমেরিকা। বর্তমানে দিল্লিতে তাকে জেরা করছে এনআইএ। যদিও ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা ‘এমআই৫’-এর সহায়তা না পেলে তার নাগালই পেত না মার্কিন তদন্তকারীরা। তাকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হতো না। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী ডেভিড কোলম্যান হেডলি এবং তার বাল্যবন্ধু রানাকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘ইনপুট’ দিয়েছিল ‘এমআই৫’। তার ভিত্তিতেই ২০০৯ সালে শিকাগো থেকে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেন মার্কিন গোয়েন্দারা।
সেই বছরই জুলাইতে
ডেনমার্কের বিতর্কিত সংবাদপত্র জিলান্ড পোস্টেনের দপ্তরে হামলার প্রস্তুতি
নিচ্ছিল হেডলি। সেই কাজের সূত্রেই এসেছিল ব্রিটেনের ডার্বিতে। এই
সংবাদপত্রেই ২০০৫ সালে হজরত মহম্মদকে নিয়ে বিতর্কিত ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশিত
হয়। তার প্রতিশোধ নিতেই কষা হয়েছিল হামলার ছক। তবে হেডলির দুর্ভাগ্য,
ব্রিটেনে যে দু’জনের সঙ্গে হামলার ব্যাপারে আলোচনা করেছিল সে, তার মধ্যে
একজন ছিল ‘এমআই৫’-এর ‘অ্যাসেট’। দীর্ঘদিন কাজের সুবাদে যে সমস্ত সিক্রেট
এজেন্টদের উপর সম্পূর্ণ ভরসা করে থাকে কোনও গোয়েন্দা সংস্থা, তাদেরই
‘অ্যাসেট বলা হয়।
ব্রিটেনের থেকে খবর পেয়ে হেডলির ব্যাপারে সক্রিয় হয়ে
ওঠে আমেরিকা। শুরু করা হয় নজরদারি। পাকিস্তান যাওয়ার পথে ও’হেয়ার
আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেটি ছিল ২০০৯ সালের
অক্টোবর মাস। তাকে জেরা করেই রানার হদিশ পান মার্কিন গোয়েন্দারা। কয়েকদিন
পরে সে গোয়েন্দাদের জালে ধরা পড়ে। জানা যায়, ২০০৯ সালের মার্চ পর্যন্ত
ন’বার মুম্বই সহ ভারতের অনেক শহরে ঘুরে আসে হেডলি। ভারতে তারা আরও একটি
বড়সড় হামলার ছক কষেছিল।
মুম্বই হামলা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে রানাকে
জোরদার জিজ্ঞাসাবাদ করছে এনআইএ। দিনে আট থেকে দশ ঘণ্টা তাকে জেরা করা হচ্ছে
বলে সূত্রের খবর। এনআইএ-র চিফ ইনভেস্টিগেটিভ অফিসার জয়া রায়ের নেতৃত্বে
চলছে এই পর্ব। গোয়েন্দারা মনে করছেন, মুম্বই হামলার পিছনে বৃহত্তর কোনও
ষড়যন্ত্র ছিল। সেই ষড়যন্ত্রের পর্দা ফাঁস করতেই এই দীর্ঘ জেরা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন