নয়াদিল্লি: ন্যাশনাল পেনশন স্কিম নিয়ে কেন্দ্রীয় কর্মীদের প্রবল ক্ষোভ ও বিরোধীদের আক্রমণের জেরে বিপাকে পড়ে মোদি সরকার। এই পরিস্থিতিতে পেনশন সংস্কারের নাম দিয়ে বিকল্প প্রক্রিয়া ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিতেও আগ্রহ নেই কেন্দ্রীয় কর্মীদের। ন্যাশনাল পেনশন স্কিমের পাশাপাশি কর্মীদের কাছে পেনশনকে আরও আকর্ষণীয় করতে ঘোষিত হয়েছিল ইউনিফায়েড পেনশন স্কিম। নতুন আর্থিক বছর অর্থাৎ ১ এপ্রিল থেকে চালু হয়েছে এই নয়া প্রকল্প।
তারপর ২০ দিন পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ন্যাশনাল পেনশন স্কিম অর্থাৎ পুরনো ব্যবস্থা নিয়ে বহু আপত্তি, ক্ষোভ থাকলেও তার বিকল্প ব্যবস্থাকে যেন সরকারি কর্মীরা বিশ্বাস করতে পারছেন না। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশজুড়ে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১৫০০ জন কর্মী নতুন বিকল্প ইউনিফায়েড পেনশন স্কিমে যোগদানের আবেদন করেছেন। এই আবেদন করার সময়সীমা ৩০ জুন পর্যন্ত। কিন্তু এখনও পর্যন্ত নামমাত্র সাড়া মেলায় যথেষ্ট অস্বস্তিতে কেন্দ্র। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৪৮ লক্ষ। তার মধ্যে ন্যাশনাল পেনশন স্কিমের আওতায় গ্রাহক ২৭ লক্ষ।
২০০৪ সালের পর কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে যোগদানকারীরা ন্যাশনাল পেনশন স্কিমের আওতায় আসতে পারেন। ওই সময়সীমার আগে যোগদানকারীদের জন্য রয়েছে সাধারণ পেনশন ব্যবস্থা। ন্যাশনাল পেনশন স্কিমে অবসরের পর যথেষ্ট বেশি পেনশন পাওয়া যায় না। এই অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কংগ্রেস ২০১৪ সালের পর থেকে একের পর এক নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এসেছে তারা ক্ষমতাসীন হলে ন্যাশনাল পেনশন স্কিম বন্ধ করে দেবে। আবার পুরনো পেনশন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনবে। এই পরিস্থিতিতে মোদি সরকার এবং বিজেপি যথেষ্ট চাপে ছিল। এরপরই আরও ভালো পেনশন ব্যবস্থার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নতুন ইউনিফায়েড পেনশন স্কিম এনেছে মোদি সরকার। নতুন ব্যবস্থায় বলা হয়েছে অবসরের সময় পাওয়া শেষ ১২ মাস ধরে পাওয়া মূল বেতনের ৫০ শতাংশ নিশ্চিত পেনশন পাওয়া যাবে। এজন্য ২৫ বছর চাকরির সময়সীমা থাকতে হবে। ন্যাশনাল পেনশন স্কিম অনুযায়ী, অবসরের পর ৬০ শতাংশ টাকা গ্রাহক প্রত্যাহার করে নিতে পারবেন, যা করমুক্ত।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন