কাকদ্বীপ: কিছুদিন আগেও যা ছিল টলটলে, এখন তা কুচকুচে কালো। সর্বদা দুর্গন্ধ বেরচ্ছে। কালনাগিনী গুরুত্বপূর্ণ নদী। কাকদ্বীপ বাজারের প্রায় মাঝ মধ্যিখান দিয়ে বয়ে গিয়েছে। বহু মৎসজীবী এই নদীর মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। এলাকার অন্যতম নিকাশি মাধ্যমও বটে। সমুদ্রে যাওয়ার আগে মাছ ধরার বড় আকারের ট্রলারগুলি নোঙর ফেলে দাঁড়িয়ে থাকে নদীতে। সবমিলিয়ে কাকদ্বীপের বহু কাজের অপরিহার্য কাজি কালনাগিনী। সেই নদীর জলই এখন কালো কুচকুচে।
কালনাগিনীর কালো বিষাক্ত জলে এখন মাছ বাঁচছে না। সবমিলিয়ে প্রবল দুশ্চিন্তায় এখানকার বাসিন্দারা। এখনও নদীতে রীতিমতো জোয়ার-ভাটা খেলে। জোয়ারের সময় জল বাড়ে বলে ঘোলাটে রং কিছুটা ফিরে আসে। কিন্তু ভাটার সময় চেহারা সম্পূর্ণ পাল্টে যায়। কালো হয়ে যায় জল। ঝাঁঝালো তীব্র দুর্গন্ধ বেরতে থাকে। চৈত্র ও বৈশাখ মাসে নদীর এই ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়। বছরের বাকি দশ মাস জল মোটামুটি স্বাভাবিক থাকে। নদীটি লট নম্বর এইটে গিয়ে মুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে মিশেছে। এই দূষিত জলের প্রভাব পড়ছে মুড়িগঙ্গাতেও। কালনাগিনীতে পার্শে-ট্যাংড়া-চিংড়ি-চুনো মাছ ইত্যাদি সারাবছরই মেলে। সেগুলি এখন উধাও।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, প্রায় পাঁচ বছর ধরে এই অবস্থা। নদী বিশেষজ্ঞদের মত, এই দশা মারাত্মক দূষণের লক্ষণ। নদী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তুহিন ভদ্র বলেন, ‘শহরাঞ্চলের কোনও জায়গা থেকে নোংরা জল নদীতে পড়লে এরকম পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। নোংরা জল যদি যন্ত্রের সাহায্যে পরিষ্কার করে নদীতে ফেলা হয় তাহলে এ সমস্যা হবে না। এই সময় মরা কোটাল চলছে। বৃষ্টি নেই। সে কারণে পরিস্থিতি ব্যাপক আকারে দেখা দিচ্ছে। কোথা থেকে এই নোংরা জল নদীতে মিশছে তা অবিলম্বে দেখা উচিত। না হলে এখন যতটুকুও বা আছে আগামী দিনে ততটুকুও জলজপ্রাণী এই নদীতে থাকবে না।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন