কলকাতা: এ অশান্ত, এ কঠিন সময়েও একরাশ আশার আলোর বার্তা দিলেন মা দুর্গা। পঞ্জিকার নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর সে আশার বার্তা আপামর বাঙালির মনকে সুস্থির করল। এ বছর দশভুজার ‘গজে আগমন’। যার ফল চারদিকজুড়ে শস্য-শ্যামল ভূমি। পরিপূর্ণ শস্য। জলাভূমি কানায় কানায় পূর্ণ। চারদিকে যে অস্থিরতার কালো মেঘ ক্রমে প্রকট হচ্ছে তা যাবে কেটে। কমবে সংঘর্ষ, রাজনৈতিক হানাহানি। শান্তির পরিবেশ সর্বত্র বিরাজ করবে। জগতের মঙ্গল কামনায় গজটিকে মর্ত্যে রেখেও যাবেন দেবী। শাস্ত্রে বলে-‘গজে চ জলদা দেবী’। এবার দুর্গাপুজো সে স্বপ্নজগতের আশ্বাসই দিচ্ছে। তবে মায়ের গমন ‘দোলায়’। অর্থাৎ ‘মড়ক’। চারদিকে রোগের প্রাদুর্ভাব হবে। ঘটবে কিছু মৃত্যুর ঘটনাও। পণ্ডিতরা বলেন, ‘দোলায়াং মরকং ভবেৎ’। তবে এ দুর্যোগ অতি সামায়িক। কয়েকদিনের মধ্যে তা কেটেও যাবে। তারপর আসবে সর্বক্ষেত্রেই ভালো সময়ের ইঙ্গিত। পরিস্থিতি হবে সুস্থিত।
প্রসঙ্গত
এবছর পুজো এগিয়ে চলে এসেছে সেপ্টেম্বরে। ২৯ সেপ্টেম্বর, সোমবার সপ্তমী।
দুই অক্টোবর, বৃহস্পতিবার দশমী। নির্ঘণ্ট অনুযায়ী, পুজো চারদিন ধরেই হবে।
এখন থেকেই বাঙালি বলতে শুরু করেছে, ‘এবার আমার উমা এলে আর উমা পাঠাবো
না...।’
দেবীর গজে আগমন সম্পর্কে গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকার বিশিষ্ট উপদেষ্টা
ও সর্বভারতীয় প্রাচ্য বিদ্যা আকাদেমির প্রবীণ অধ্যক্ষ জয়ন্ত কুশারী বলেন,
‘মা গজে আসার ফলে মাঠ‑ঘাট‑খেত ফসলে একেবারে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। নদী‑নালায়
জল ভরে থাকবে। ফলে আরও সমৃদ্ধি ব্যবসা‑বাণিজ্যে। মানুষের দুঃখ‑কষ্ট কমে
যাবে। অন্ন‑বস্ত্রের অভাব ঘটবে না। জীবের কষ্ট লাঘব হবে। দুঃখ অনেকটাই
কমবে। সবদিক থেকে বিরাজ করবে শান্তির পরিবেশ। হবে নানা উন্নয়নমূলক কাজকর্ম।
হবে সমাজের প্রভূত মঙ্গল।’ এর পাশাপাশি গুপ্ত প্রেস পঞ্জিকার প্রধান
রাজগণক অচিন্ত্য ভট্টাচার্য বলেন, ‘মা দোলায় গমন করার ফলে কিছু সাময়িক
অস্বস্তি দেখা দেবে। তবে দোলায় গমনের কিছু ভালো ফলও হয়ে থাকে। কারণ মা
যাওয়ার সময় সঙ্গে দোলাটি নিয়ে চলে যাবেন। ফলে মৃত্যু, রোগ, জরা ব্যাধিই
সবই তিনি সঙ্গে নিয়ে যাবেন। তারপর ধূসর বসুন্ধরা ফের সুন্দর হয়ে ফিরে আসবে।
ফের প্রকৃতি ফুলে‑ফলে‑শস্যে হয়ে উঠবে পরিপূর্ণ। মানুষের মনের অশান্তভাব
কমবে। সুবুদ্ধি জাগ্রত হবে। যাবতীয় অশুভ প্রভাব কেটে উজ্জীবিত হবে
ধরিত্রী।’
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার কর্ণধার সুপর্ণ লাহিড়ী বলেন, ‘মা এবার দোলায় করে চলে যাওয়ার সময় মর্ত্যে রেখে দিয়ে যাবেন তাঁর গজটিকে। অর্থাৎ তিনি সকলের জন্যই মঙ্গলবার্তা ছেড়ে যাবেন। সমস্ত কাজকর্মের মধ্যে যাতে শুভ প্রভাব পড়ে তারই ইঙ্গিত রেখে যাবেন। দোলায় তিনি গমন করলেও আমাদের উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার কোনও কারণ নেই। এর নেপথ্যে রয়েছে নানা ভালো দিক।’ তবে অন্যান্য পঞ্জিকাবিদদের মতে, দেবী দুর্গার আগমন ও গমন নিয়ে শাস্ত্রে নানা কথা বলা হয়েছে। সেখানে ভালো‑মন্দের বহুবিধ বিধান দেওয়া থাকলেও হলফ করে বলা যায়, মা কখনওই চান না তাঁর সন্তানরা অভাব‑অনটন, দুঃখ‑কষ্ট‑যন্ত্রণার মধ্যে থাকুক। তিনি তাঁর সন্তানদের সর্বদা মঙ্গলই চান। ফলে দুর্গার মর্ত্যে আগমনই সর্বত্র সমৃদ্ধের বার্তা বয়ে আনে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন