বারাসত: গত বছর ডিসেম্বরে ‘বাংলা বাড়ি’ প্রকল্পে প্রথম কিস্তির টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে দিয়েছে রাজ্য সরকার। তারপর তিনমাস হলেও উত্তর ২৪ পরগনা জেলাতে বাড়ি তৈরি শুরু করেননি অনেকে। টাকা পেয়েই ‘বেপাত্তা’ হয়ে গিয়েছেন তাঁরা। এখন তাঁদের ‘খোঁজ’ করছেন পঞ্চায়েত কর্মীরা। তাঁদের নোটিস পাঠানো শুরু করছে প্রশাসন। নোটিস হাতে পাওয়ার অন্তত ১৫ দিনের মধ্যে বাড়ি তৈরি করা শুরু না হলে কড়া আইনি পদক্ষেপেরও ‘হুঁশিয়ারি’ দেওয়া হচ্ছে।
আবাস যোজনা
প্রকল্পে দীর্ঘদিন ধরে কেন্দ্রীয় বঞ্চনার শিকার বাংলা। তাই গরিব মানুষের
মাথায় ছাদ দিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা মতো বাংলার বাড়ি
প্রকল্পে টাকা দেওয়া হয়েছে। গত ডিসেম্বরে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ৮২ হাজার
উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির ৬০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি নবান্নে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে অগ্রগতির রিপোর্ট জমা পড়েছে। তাতে
দেখা গিয়েছে, জেলায় ৫৯৮৩ জন উপভোক্তা বাড়ির কাজ শুরুই করেননি। তার মধ্যে
৪৯৪৮ জন উপভোক্তা এখনও ইমারতি সামগ্রীও কেনেননি। এই উপভোক্তাদের মধ্যে
সিংহভাগ রয়েছেন ভিন রাজ্যে কাজে। বারে বারে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে বলা হলেও,
তাঁরা কাজ শুরু করার কোনও সদিচ্ছা দেখাচ্ছেন না। এদিকে, টাকা দেওয়ার পরও
বাড়ি তৈরিতে এমন গড়িমসিতে ক্ষুব্ধ প্রশাসন।
বর্তমানে জেলার ২২টি
ব্লকে সমীক্ষা চলছে। দেখা যাচ্ছে, অনেকে বাড়ি তৈরির জন্য ইমারতি সামগ্রী
নিয়ে এলেও, এখনও নির্মাণ শুরু করেননি। আবার কেউ কেউ টাকা পেয়েও কোনও কাজই
শুরু করেননি। প্রথমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এমন উপভোক্তাদের মৌখিকভাবে সতর্ক করা
হয়। বলা হয়, প্রথম দফার টাকায় কাজের অগ্রগতি হলেই পরবর্তী পর্যায়ের টাকা
মিলবে। তারপরও অনেক উপভোক্তার কোনও হেলদোল নেই। তাই, এমন উপভোক্তাদের
বাড়ি গিয়ে নোটিস ধরানো শুরু হয়েছে।
সেই নোটিসে স্পষ্টভাবে জানিয়ে
দেওয়া হচ্ছে, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু না করলে উপভোক্তার
বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে, এতেও কাজ নাহলে টাকা ফেরত দিতে
হবে বলে মুচলেখা লেখানোর কথাও ভাবছে দপ্তর। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের
কথায়, উপভোক্তাদের অনেকে পরিযায়ী শ্রমিক। আমাদের কাছে খবর আছে, তাঁরা
ছুটিতে এসে মালপত্র কিনে বাড়ি তৈরির কাজ শুরু করবেন। নোটিস পাঠিয়ে, ফোন
করে এই উপভোক্তাদের সতর্ক করা হচ্ছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন