নয়াদিল্লি: শুধুই পশ্চিম সীমান্তকে সামনে রেখে প্রস্তুতি শেষ নয় ভারতের। কারণ, পাকিস্তান এবার একা নয়। চীনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে—বেজিং আছে পাকিস্তানের পাশেই। মনে হতেই পারে এর মধ্যে নতুনত্ব কী? পাকিস্তানের পাশে চীন ১৯৬৫ অথবা ১৯৭১ প্রতিটি যুদ্ধেই ছিল। অবশ্যই ছিল। কিন্তু প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করেনি। আড়ালে থেকে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু এবার পাকিস্তান এবং চীন হুবহু এক সুরে কথা বলছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছিলেন, ‘আমরা নিরপেক্ষ কোনও এজেন্সি মারফত পহেলগাঁওয়ের তদন্তে রাজি।’ চীন ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঠিক সেই কথাই বলেছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘেও পহেলগাঁও বিবৃতিতে চীন-পাকিস্তান এক সুর। সুতরাং পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের সুযোগে চীন যে লাদাখ, অরুণাচল, সিকিমে আবার হানা দিয়ে ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে পড়বে না, সেই নিশ্চয়তা নেই। বরং ভারতীয় সামরিক বাহিনী যাতে দুই সীমান্ত ফ্রন্টে বিভাজিত হয়ে গিয়ে নাস্তানাবুদ হয়, সেই প্ল্যানই ছকছে চীন। তবে করাচি বন্দরে চীনের দু’টি সাবমেরিন আগে থেকেই মোতায়েন রয়েছে। শনিবার থেকে তুরস্ক এবং চীন নিজেদের সমরশক্তি জড়ো করতে শুরু করেছে পাকিস্তানের বন্দর এবং এয়ারফোর্স বেসে। গত ৪৮ ঘণ্টায় তুরস্কের ৬টি সি-থার্টি এয়ারক্র্যাফ্ট এসেছে পাকিস্তানে। আর তাই ভারত পুরোদস্তুর টু-ফ্রন্ট কনফ্লিক্টের প্রস্তুতিতে। উপমহাদেশের আকাশে যুদ্ধের দামামা আরও জোরদার হচ্ছে। সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠক করেন। ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও। পাশাপাশি তিন সামরিক প্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। একইসঙ্গে বিভিন্ন দেশের বিদেশমন্ত্রীদের সঙ্গে লাগাতার ফোনে বার্তালাপ চালাচ্ছেন এস জয়শঙ্কর। আর সমরসজ্জা তৈরি হচ্ছে পাকিস্তান ও চীন, দুই সীমান্তেই।
করাচি ছিল ১৯৭১ সালে ভারতের প্রথম টার্গেট। করাচির বায়ুসেনার
রানওয়ে ধ্বংস করে দেওয়া থেকেই ভারতীয় বাহিনী শুরু করেছিল সেই ১৩ দিনের
যুদ্ধ। সেকথা মনে রেখেই হয়তো পাকিস্তান হঠাৎ করাচিকে মুড়ে দিয়েছে জোরদার
নিরাপত্তার বলয়ে। সর্বাধিক এফ-সিক্সটিন, জে-টেনস এবং জেএফ-সেভেনটিন
মোতায়েন করা হয়েছে করাচিতে। পক্ষান্তরে জানা যাচ্ছে পাকিস্তান যখন ভাবছে
ভারত প্রিসিশন স্ট্রাইক কিংবা হট পারস্যুটের পথে হাঁটবে, সেখানে সমর
বিশেষজ্ঞদের অনুমান, ভারত যদি সত্যিই আজকালের মধ্যে অপারেশন শুরু করে,
তাহলে রণকৌশল নিছক বায়ুসেনা, নৌবাহিনী এবং আর্মির ফিজিক্যাল স্ট্রাইকের
উপরই সীমাবদ্ধ থাকবে না। ২০২৫ সালের সম্ভাব্য সংঘাতে ভারতের ব্রহ্মাস্ত্র
এবং পাশুপত হতে চলেছে সাইবার এবং স্পেস অ্যাটাক।
পাকিস্তানের মিলিটারি কমান্ড নেটওয়ার্ককে সাইবার আক্রমণে পঙ্গু করে দেওয়ার রসদ রয়েছে ভারতের। ভারতীয় ম্যালওয়ার মোক্ষম সময়ে পাকিস্তানের পাওয়ার গ্রিড এবং রেলওয়ে সিগন্যালিং সিস্টেমে আঘাত হেনে কমিউনিকেশন বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। ঠিক একইভাবে ডিফেন্স স্পেস এজেন্সির টার্গেট হতে পারে পাকিস্তানের মিলিটারি স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক। যা ওয়ারফ্রন্টে রেডার ও কমিউনিকেশন লিঙ্ক সম্পূর্ণ ব্যাহত করে দিতে সক্ষম। সাইবার ও স্পেস অ্যাটাকের কারণ, সেই সুযোগেই ইন্ডিয়ান এলিট প্যারা কমান্ডো লাইন অব কন্ট্রোল পেরিয়ে পাকিস্তান অথবা অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে অপারেশন করতে পারে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন