আরামবাগ: আরামবাগে প্রফুল্লচন্দ্র সেন গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ডায়ালিসিস পরিষেবা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে রোগীর আত্মীয়দের মধ্যে। ডায়ালিসিস চলতে চলতেই মাঝে মাঝে বিকল হয়ে পড়ছে যন্ত্র। তাতেই বিপাকে পড়ছেন রোগীর আত্মীয়রা। মঙ্গলবারও একইভাবে যন্ত্র বিকল হয়ে পড়ে। তার জেরে হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টারের কাছে অভিযোগ জানাতে যান রোগীর আত্মীয়রা। এই নিয়ে তাঁরা ক্ষোভ প্রকাশও করেছেন। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ডায়ালিসিস ইউনিট সুপারস্পেশালিটি ভবনে স্থানান্তর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরজন্য বেড সংখ্যা পাঁচ থেকে বাড়িয়ে ১০ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। এই ব্যাপারে আরামবাগ মেডিক্যালের এমএসভিপি ইন্দ্রা দত্ত বলেন, খুব দ্রুত যাতে ডায়ালিসিস ইউনিট স্থানান্তর করা যায় তার প্রস্তুতি চলছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা
গিয়েছে, আরামবাগ মেডিক্যালের পুরনো ভবনের তিনতলায় রয়েছে ডায়ালিসিস ইউনিট।
বর্তমানে সেখানে পাঁচটি বেড রয়েছে। কিন্তু নিত্যদিন সেখানে রোগীর চাপ
বাড়ছে। আরামবাগ মহকুমার পাশাপাশি মেদিনীপুর, বাঁকুড়া ও পূর্ব বর্ধমান জেলার
একাংশ থেকেও রোগীরা এখানে আসেন। পাঁচটি বেডে রোগীদের পরিষেবা দিতে গিয়ে
হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেও। এমন অবস্থায় ডায়ালিসিস পরিষেবা
নিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন রোগীর আত্মীয়রা।
এদিন গোঘাটের আসলহরীর
বাসিন্দা ৬৬ বছরের লুৎফুন্নেসা বিবি ডায়ালিসিস করাতে আসেন। তাঁর স্বামী শেখ
ইসলাম আলি বলেন, স্ত্রীর ডায়ালিসিস করাতে বিগত তিন বছর ধরে হাসপাতালে আসতে
হচ্ছে। নিত্যদিন আমাদের ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়। ডায়ালিসিস যন্ত্র বিকল
হয়ে যাচ্ছে। তার জেরে রোগী সেই মুহূর্তে ছটফট করছে। আমরা খুব আতঙ্কের মধ্যে
থাকি। এর আগেও একাধিকবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কিন্তু লাভ কিছু হয়নি।
এদিন ফের ওয়ার্ড মাস্টারের অফিসে অভিযোগ জানানো হয়। কিন্তু সেখান থেকেও
কোনও সদুত্তর পাওয়া যায়নি। আরেক রোগী গোঘাটের গড় মান্দারণের বাসিন্দা
মহম্মদ মইদুল ইসলামও এদিন ডায়ালিসিস করাতে আসেন। তাঁর স্ত্রী শাবানা বেগম
বলেন, এদিনও ডায়ালিসিস চলাকালীন যন্ত্র বিকল হয়ে যায়। ইউনিটের দায়িত্ব
প্রাপ্তরা তা সারানোর কাজ করছেন। কিন্তু এভাবে কতদিন চালানো সম্ভব?
কর্তৃপক্ষ যাতে দ্রুত এই ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়, তার জন্য আর্জি জানাচ্ছি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন