নয়াদিল্লি: ৭৮ বছর বয়সেও বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দলের ‘হুইপ’ মেনে সংসদে হাজির সোনিয়া গান্ধী। কন্যা প্রিয়াঙ্কা গায়েব। চলে গেলেন বিদেশ। অসুস্থতা উপেক্ষা করেও বৃহস্পতিবার রাত একটার সময় রাজ্যসভায় উপস্থিত হন সোনিয়া। ওয়াকফ সংশোধনী বিলের বিরোধিতায় ভোট দিতেই প্রায় ভোর রাত পর্যন্ত ছিলেন। অথচ কন্যা ৫৩ বছরের প্রিয়াঙ্কা গান্ধী গত ২৭ মার্চ থেকে সংসদে আর এলেন না। ওয়েনাড়ের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা ২৭-২৯ মার্চ কেরলে তাঁর নির্বাচনী এলাকার ঠাসা কর্মসূচিতে ছিলেন ব্যস্ত। কিন্তু তারপর?
লোকসভায় গত বুধবার ২ এপ্রিল পাশ হয়েছে ওয়াকফ সংশোধনী বিল। বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী হাজির থাকলেও প্রিয়াঙ্কা গায়েব! রাহুল অবশ্য বিলের আলোচনায় অংশ নেননি। ভোটাভুটিতে অংশ নিতে এসেছিলেন। রাত সাড়ে ১১ টা নাগাদ। ভোটদান হয়ে বিল পাশ হয়েছিল রাত ১ টা বেজে ৫৬ মিনিটে। ওয়াকফের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিলের ভোটাভুটিতে হুইপ থাকা সত্ত্বেও লোকসভায় ছিলেন না প্রিয়াঙ্কা। তাই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। সমালোচনা। বিশেষত, ওয়েনাড়ে মুসলমান ভোটার থাকা সত্ত্বেও প্রিয়াঙ্কার গরহাজিরা নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। রাহুল-প্রিয়াঙ্কার এই ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছে একটি মালয়ালম পত্রিকা।
এআইসিসি সূত্রে জানা গিয়েছে, কেরলের কর্মসূচি সেরে প্রিয়াঙ্কা এখন বিদেশে। তবে কোথায় গিয়েছেন, কেন গিয়েছেন, তা নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ দল। কেউ বলছেন, পরিজনের কোনও অসুস্থ ব্যক্তিকে দেখতে বিদেশ গিয়েছেন। কেউ জানাচ্ছেন, ছুটি কাটাতে। তবে তিনি যে সংসদের অধিবেশনের শেষাংশে থাকবেন না, তা লোকসভার স্পিকার এবং দলকে চিঠি দিয়ে আগেই জানিয়েছেন বলেই খবর। তাছাড়া ওয়াকফ বিল আসবে, সেটিও ঠিক জানা ছিল না। যদিও এসবের পরেও বিতর্ক থামছে না। এআইসিসির নেতারা পাল্টা বলছেন, লোকসভা হোক বা রাজ্যসভা, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও তো খোদ উপস্থিত ছিলেন না। তার বেলা?
এদিকে, ওয়াকফ বিলের বিরোধিতা তো বটেই, সংসদে সরকার বিলটি একপ্রকার বুলডোজ করে পাশ করিয়েছে বলে সোনিয়া গান্ধীর মন্তব্য নিয়ে শুক্রবার উত্তাল হল সংসদ। শেষদিনেও দফায় দফায় হল মুলতুবি। গোড়ায় এক ঘন্টা। পরে অনির্দিষ্টকালের জন্য। লোকসভা বসতেই বিজেপি’র সাংসদরা জোড়েন হল্লা। স্লোগান তোলেন সোনিয়া গান্ধী মাফি মাঙ্গো। পাল্টা কংগ্রেস সাংসদদের স্লোগান আমেরিকার টারিফ ইস্যুতে। উভয়পক্ষের বিক্ষোভে সভা ভণ্ডুল।
সোনিয়া গান্ধী রাজ্যসভার সদস্য হওয়া সত্ত্বেও তাঁর নামে বেনজির সমালোচনামূলক মন্তব্য করলেন স্পিকার ওম বিড়লা। প্রথমে সংখ্যালঘু বিষয়কমন্ত্রী কিরেণ রিজিজু নাম না করে সোনিয়া গান্ধীর সমালোচনা করলেন। তারপরই বিড়লা। লিখিত বক্তব্য পড়লেন স্পিকার। বললেন, লোকসভায় ওয়াকফ বিল ১৩ ঘণ্টা ৫৩ মিনিট আলোচনা হয়েছে। তারপরও অন্য সভার (রাজ্যসভার) এক সদস্য, আগে তিনি লোকসভার সদস্য ছিলেন, যেভাবে সংসদ চত্বরে মন্তব্য করেছেন, তা সংসদীয় মর্যাদার পরিপন্থী। যদিও এ ব্যাপারে অধিবেশন শেষে কংগ্রেসের গৌরব গগৈ এবং প্রমোদ তিওয়ারি পাল্টা প্রশ্ন ছোঁড়েন। বলেন, সোনিয়া গান্ধী যা বলেছেন, তা দলের বৈঠকে। পুরনো সংসদ ভবনের সেন্ট্রাল হলে। তিনি লোকসভার সদস্য নন। তাহলে কেন তাঁর নামে লোকসভায় সমালোচনা করা হবে? এটি অনুচিত।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন