সিউড়ি: বীরভূম জেলাজুড়ে রমরমিয়ে চলছে একাধিক অবৈধ পেট্রল পাম্প। জেলা পুলিসের এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ সেরকম দু’টি পাম্প সিল করেছে। তবে তাতে যে অবৈধ পেট্রল পাম্পের কারবারে ইতি পড়েছে তা বলা যাবে না। কারণ, এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের কর্তাদের একাংশের অনুমান, জেলায় আরও বেশকিছু অবৈধ পেট্রল পাম্প চলছে। এই পাম্পগুলি মূলত ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া এলাকায় সক্রিয়। পুলিসের নজর এড়িয়ে ভিন রাজ্য থেকে এই পাম্পগুলিতে পেট্রল আমদানি করা হয়। সেই তালিকায় প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডও রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, ওই রাজ্যগুলিতে পেট্রলের দাম পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় কম হওয়ায় সেখান থেকে তা আমদানি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পুলিসের তরফে অবৈধ পেট্রল পাম্পের তালিকা তৈরি শুরু হয়েছে। একইসঙ্গে চলছে অভিযানও। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের ডিএসপি স্বপনকুমার চক্রবর্তী বলেন, ইতিমধ্যে একাধিক অবৈধ পেট্রল পাম্পের হদিশ মিলেছে। পুলিস সুপারের নির্দেশে আমাদের তরফে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে ঝাড়খণ্ড সীমানা এলাকায় নজরদারি চালানো হচ্ছে। অবৈধ পাম্পের হদিশ মিললেই তা সিল করা হবে। সেইসঙ্গে আইনানুগ পদক্ষেপও করা হবে।
অবৈধ মিনি পেট্রল
পাম্পের বিরুদ্ধে তদন্তে নেমে এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের কর্তারা জানতে
পেরেছেন, অতিরিক্ত মুনাফার লোভে একদল অসাধু ব্যবসায়ী ঝাড়খণ্ড সহ অন্যান্য
রাজ্য থেকে কম দামে পেট্রল কিনে ঝাড়খণ্ড লাগোয়া রাজনগর, লোকপুর সহ বিভিন্ন
এলাকা হয়ে জেলায় ঢোকাচ্ছে। পুলিসের নজর এড়াতে ছোট ছোট ট্যাঙ্কারে করে ভিন
রাজ্য থেকে পেট্রল আনা হচ্ছে। সবটাই চলছে অবৈধ উপায়ে। এরপর চুপিসারে সেই
পেট্রল সীমানা লাগোয়া মিনি পেট্রল পাম্পগুলিতে পৌঁছে যাচ্ছে। কোনও ক্ষেত্রে
অতিরিক্ত মুনাফা লাভের আশায় পেট্রলের সঙ্গে কেরোসিনও মেশানো হচ্ছে।
পরবর্তীতে তা মিনি পেট্রল পাম্পগুলি থেকে বাজারদরের চেয়ে কম দামে বিক্রি
করা হচ্ছে। ফলে ওইসব পাম্পে গ্রাহকের সংখ্যা উত্তরোত্তর বাড়ছে। সমস্যায়
পড়তে হচ্ছে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের।
ইতিমধ্যে জেলার দুবরাজপুর ও লোকপুর
এলাকায় দু’টি অবৈধ মিনি পেট্রল পাম্পের হদিশ মিলেছে। দু’টি পাম্পই ঝাড়খণ্ড
সীমানা থেকে খুব একটা দূরে নয়। এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের কর্তাদের একাংশের
কথায়, পুলিসের নজর এড়াতেই সীমানা লাগোয়া এলাকাতে পাম্পগুলি তৈরি করা হচ্ছে।
সেখানে খোলা বাজারের তুলনায় কম দামে পেট্রল বিক্রি হওয়ায় মানুষও ভিড়
জমাচ্ছে। এদিকে চাহিদা বাড়তে থাকায় জেলায় অবৈধ মিনি পেট্রল পাম্পের সংখ্যাও
বাড়ছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন