নয়াদিল্লি: বাংলার রেল যাত্রীরা কি আদৌ নিরাপদ? ট্রেন চালকদের হাতে কতটা সুরক্ষিত তাঁরা? এহেন প্রশ্ন কেন? কারণ সম্প্রতি এক আরটিআই জবাবে সামনে এসেছে পূর্ব রেলের ব্রেথ অ্যানালাইজার টেস্ট সংক্রান্ত রিপোর্টের বিস্তারিত তথ্য। এই পরীক্ষার মাধ্যমে বোঝা সম্ভব, কর্তব্যরত রেল কর্মীরা অন-ডিউটি কিংবা কাজে যোগ দেওয়ার আগে মদ্যপান করেছেন কি না। দেখা গিয়েছে যে, ‘সাইন অফ’ ডিউটিতে এহেন ব্রেথ অ্যানালাইজার টেস্টে ব্যর্থ হয়েছেন পূর্ব রেলের মোট ৭৯ জন চালক এবং সহ চালক। ‘সাইন অফ’, অর্থাৎ ডিউটি শেষ হওয়ার পরমুহূর্তেই পরীক্ষা হয়েছে। এর অর্থ, ট্রেন চালানোর সময়ই মদ্যপান করেছেন সংশ্লিষ্ট লোকো পাইলট এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো পাইলটরা। অন্যদিকে, ‘সাইন অন’ ডিউটিতে একই পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছেন ১৯৩ জন ট্রেন চালক এবং সহ চালক। এর অর্থ, ডিউটিতে যোগ করার ঠিক আগের মুহূর্তে মদ্যপান করেছেন তাঁরা।
এই সংক্রান্ত সবিস্তার তথ্য পেতে তথ্য জানার অধিকার আইনে আবেদন করেছিলেন মধ্যপ্রদেশের বাসিন্দা চন্দ্রশেখর গৌড়। ওই আরটিআইয়ের জবাবেই পূর্ব রেলের চার ডিভিশনে দু’বছরের ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। স্বাভাবিকভাবেই একে ঘিরে চরম উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে রেল বিশেষজ্ঞ মহলে। পূর্ব রেলের ওই চারটি ডিভিশন হল আসানসোল, হাওড়া, মালদহ টাউন এবং শিয়ালদহ। মোটামুটিভাবে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ব্রেথ অ্যানালাইজার টেস্টের রিপোর্টের তথ্য দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট আরটিআইয়ের জবাবে। আসানসোল ডিভিশনের তথ্য মিলেছে ২০২৩ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ পর্যন্ত। হাওড়া ডিভিশনের তথ্য মিলেছে ২০২৩ এবং ২০২৪ সালের। মালদহ টাউন ডিভিশন তথ্য দিয়েছে ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালের। আবার শিয়ালদহ ডিভিশনের এই সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া হয়েছে ২০২৩-২৪ এবং ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের।
আরটিআইয়ের জবাব থেকে দেখা যাচ্ছে যে, উল্লিখিত সময়সীমায় ‘সাইন অফ’ এবং ‘সাইন অন’ ডিউটিতে ব্রেথ অ্যানালাইজার টেস্টে সবথেকে বেশি ব্যর্থ হওয়ার ‘রেকর্ড’ হয়েছে হাওড়া ডিভিশনেই। যথাক্রমে ৪৯ এবং ১১১। ‘সাইন অফ’ ডিউটির ক্ষেত্রে উল্লিখিত পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়া ট্রেন চালক এবং সহ চালকের সংখ্যা আসানসোলে ছ’জন, মালদহ টাউনে ন’জন এবং শিয়ালদহে ১৫ জন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন