মুল্লানপুর: যা হওয়া উচিত ছিল, তা হয়নি। যা কেউ ভাবেননি, সেটাই হচ্ছে। শ্রেয়স আয়ারের নাইট রাইডার্স ছাড়া এবং পাঞ্জাব কিংসের নেতা হিসেবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে দলকে প্রথম ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখানো তারই উদাহরণ।
গতবার শ্রেয়সের নেতৃত্বেই চ্যাম্পিয়ন
হয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তিনি ছিলেন শাহরুখের পছন্দের পাত্র। অনেকেই
মজা করে বলতেন, কেকেআরের ঘরের ছেলে শ্রেয়স। কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টের
সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে দল ছাড়েন তিনি। নিলামে তাঁকে বিরাট অঙ্কে তুলে
নেয় পাঞ্জাব। আসলে প্রীতি জিন্টার দল এখনও পর্যন্ত খেতাব জিততে পারেনি। তাই
এমন একজন নেতাকে তাদের দরকার ছিল, যে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেবে এবং পথ
দেখাবে। শ্রেয়সের আগমনে পাঞ্জাব কিংসের মুশকিল অনেকটাই আসান। এবারের
আইপিএলে দুরন্ত ফর্মে তিনি। পাঁচ ম্যাচে ঝুলিতে ২৫০ রান। বলা ভালো, তাঁর
দেখানো পথেই এগচ্ছে পাঞ্জাব কিংস। একেবারে অচেনা মেজাজে। পাঁচটি খেলে
তিনটিতে জয়। সোমবার ঘরের মাঠে নাইটদের হারালে শ্রেয়সের পাঞ্জাব প্রথম চারে
ঢুকে পড়তেও পারে।
গত ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসকে ফুৎকারে উড়িয়ে
ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে রাহানে ব্রিগেডও। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংও ভালোই
হচ্ছে। ফলে কোচ চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের মুখের হাসি চওড়া হয়েছে। তিনি
আশাবাদী, পাঞ্জাবকে হারিয়েই কলকাতায় ফিরবে দল। কিন্তু সমস্যা হল, নাইটরা
এবারের আইপিএলে ধারাবাহিকতা দেখাতে ব্যর্থ। সেটাই চিন্তার বড় কারণ।
নিশ্চিতভাবে
এই ম্যাচে আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকবেন শ্রেয়স। অধিনায়ক হিসেবে শুধু
পাঞ্জাবকে জয় এনে দেওয়াই নয়, পুরনো দলের বিরুদ্ধে সেরা পারফরম্যান্স মেলে
ধরে উপেক্ষার জবাব দেওয়াও লক্ষ্য থাকবে। তাঁকে ছেড়ে দেওয়াটা যে কত বড় ভুল,
সেই বার্তা বেঙ্কি মাইসোরদের দিতে তৈরি শ্রেয়স। এত সমীকরণ মাথায় রেখে
ভালো পারফর্ম করা সত্যিই কঠিন। কিন্তু শ্রেয়স জানেন, এই ম্যাচ তাঁর কাছে
কতটা গুরুত্বপূর্ণ। পাঞ্জাবের ব্যাটিং মন্দ নয়। শুরুতে প্রিয়াংশ আর্য ও
প্রভসিমরন সিং ঝড় তুলতে পারেন। তাই নাইট রাইডার্সের দুই ভারতীয় পেসার বৈভব
অরোরা এবং হর্ষিত রানার উপর চাপ থাকবে। তবে পাওয়ার প্লে’তেই বরুণ
চক্রবর্তীর হাতে বল তুলে দেওয়া হচ্ছে। যাতে রানের গতিতে লাগাম টেনে উইকেট
ফেলা যায়।
গত ম্যাচে ২৪৫ তুলেও হায়দরাবাদের কাছে হেরেছিল পাঞ্জাব। সেই
ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া তারা। প্রীতি জিন্টার দলের মিডল
অর্ডারও শক্তিশালী। শশাঙ্ক সিং, নেহাল ওয়াধেরার পাশাপাশি আছেন ম্যাক্সওয়েল ও
স্টোইনিস। দু’জনেই ম্যাচ উইনার। নিজের দিনে অনেক হিসেবে উল্টে দিতে
পারেন। সেকথা মাথা রাখতে হবে রাহানেদের। তাই আত্মতুষ্টির কোনও জায়গা নেই।
চেন্নাই ম্যাচের মতো নারিন, বরুণদের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স মেলে ধরতেই
হবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন