মুম্বই: জোড়া হার দিয়ে পঁচিশের আইপিএলে যাত্রা শুরু করেছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। তা দেখে অনেকেই কটাক্ষের সুরে বলতে শুরু করেছিলেন, এবারও আম্বানির দল প্লে-অফের টিকিট পাবে না। তবে টুর্নামেন্ট কিছুটা গড়াতেই অন্য মেজাজে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। পর পাঁচটি ম্যাচ জিতে এক ঝটকায় পয়েন্ট টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে হার্দিক বাহিনী। অশ্বমেধের ঘোড়ার মতো ছুটছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। রবিবার ঘরের মাঠে লখনউ সুপার জায়ান্টসকে ৫৪ রানে হারাতে খুব বেশি বেগ পেতে হল না বোল্টদের।
ওয়াংখেড়ের
পিচে প্রচুর রান ওঠে। তা জেনেও লখনউয়ের ক্যাপ্টেন ঋষভ পন্থ কেন আগে
ফিল্ডিং নিলেন তা বোধগম্য নয়। সুযোগ কাজে লাগান রিকেলটন, উইল জ্যাকসরা।
১২ রানে রোহিত আউট হলেও রিকেলটন ঝোড়ো ৫৮ রান করেন। জ্যাকসের সংগ্রহ ২৮।
সূর্যকুমার যাদবও (৫৪) হাফ-সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে কমলা টুপি দখল করলেন। তিলক
ভার্মা, হার্দিক পান্ডিয়া বড় রান পাননি। তবে নমন ধীর ও করবিন বস শেষ দিকে
দ্রুত রান তুলে দলের স্কোর পৌঁছে দেন ৭ উইকেটে ২১৫ রানে।
এই টার্গেট
চেজ করার মতো ব্যাটিং অবশ্য লখনউয়ের ছিল। কিন্তু আইডেন মার্করামকে মাত্র ৯
রানে ফেরান বুমরাহ। শিকারি নেকড়ের মতো শুরুতে রক্তের স্বাদ পেয়ে বুম বুম
হয়ে ওঠেন আরও ভয়ঙ্কর। সেই সঙ্গে নিকোলাস পুরান (২৭) ও ঋষভ পন্থকে (৪) পর
পর আউট করে উইল জ্যাকস চাপে ফেলে দেন লখনউকে। নামের প্রতি সুবিচার করতে
ব্যর্থ ক্যাপ্টেন ঋষভ পন্থ। ব্যাটে রান নেই। নেতৃত্ব নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
রেকর্ড ২৭ কোটি টাকা দিয়ে তাঁকে দলে নিয়েছিল লখনউ। এভাবে চলতে থাকলে
ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের ক্ষোভ হওয়াটাই স্বাভাবিক।
মিচেল মার্শ (২৭) ও
আয়ূষ বাদোনি (৩৫) জুটি বেঁধে দলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন।
কিন্তু বোল্ট এসে সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেন। দু’টি উইকেট নেন কিউয়ি পেসার।
তবে মিলার, আসাদদের উপস্থিতিতে তখনও আশায় ছিল লখনউ। কিন্তু বুমরাহ ১৬তম
ওভারে তিন উইকেট নিয়ে মুম্বইয়ের জয় নিশ্চিত করে দেন। চোটের কারণে প্রথম
দিকে খেলতে পারেননি বুমরাহ। ছন্দে ফিরতেও সময় লাগছিল। তবে লখনউ ম্যাচ দেখে
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুমরাহ এখন অনেক বেশি ধারালো। মূলত তাঁর গতির
আগুনে লখনউ ১৬১ রানে গুটিয়ে যায়। এদিন হারায় নবাবের শহরের ফ্র্যাঞ্চাইজির
পয়েন্ট দাঁড়াল ১০ ম্যাচে ১০।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন