কাঁথি: আর মাত্র ১৯ দিন। আগামী ৩০ এপ্রিল দীঘার জগন্নাথধাম ও সংস্কৃতি কেন্দ্রের উদ্বোধন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে হাজির থাকার কথা বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, আমলা, শিল্পপতি, রাজনীতিবিদ, অভিনেতা, তারকাদের। তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে সৈকতশহরে। প্রশাসন দীঘার সরকারি গেস্ট হাউসগুলি বুকিং শুরু করেছে। পাশাপাশি বেসরকারি হোটেল ও লজগুলিও বুক করা হচ্ছে। এর ফলে ওই সময়ে দীঘায় থাকার জায়গা পেতে সমস্যা হবে বলে মনে করছেন পর্যটক এবং হোটেল-লজ মালিকদের একাংশ। ৩০ এপ্রিল জগন্নাথধামের উদ্বোধন এবং আগের দিন অর্থাৎ ২৯ তারিখ জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার মূর্তিতে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হবে। জগন্নাথধাম উদ্বোধন এবং তার পরবর্তী সময়ে দীঘায় লক্ষাধিক পর্যটক ও পুণ্যার্থীর সমাগম হবে বলে আশাবাদী জেলা প্রশাসন। সে কথা মাথায় রেখেই সবরকম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। দীঘায় দু’টি অতিরিক্ত হেলিপ্যাড তৈরি হচ্ছে। নিউ দীঘার জাতিমাটি এলাকায় আগে থেকেই একটি স্থায়ী হেলিপ্যাড রয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আগামী ২৭ এপ্রিল থেকে ১ মে পর্যন্ত দীঘার কোনও সরকারি গেস্ট হাউসে পর্যটক রাখা যাবে না। গেস্ট হাউসগুলির অধিকাংশই দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থার (ডিএসডিএ)। ওই গেস্ট হাউসগুলি সরকারি অতিথিদের জন্য তৈরি রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া যুবকল্যাণ দপ্তর, পূর্ত, সেচ সহ প্রায় সব দপ্তরের আলাদা করে গেস্ট হাউস রয়েছে। ওইসব গেস্ট হাউসগুলিও ২৭ তারিখ থেকে পয়লা মে পর্যন্ত অতিথিদের জন্য প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওল্ড ও নিউ দীঘায় কয়েকটি বিলাসবহুল লজ বুকিং করা হয়েছে। এর ফলে ওই সময় ঘরভাড়া নাও পেতে পারেন সাধারণ পর্যটকরা। আগাম বুকিং বাতিলেরও সম্ভবনা থাকছে।
দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, জগন্নাথধাম উদ্বোধনের সাক্ষী থাকতে ওই সময়ে প্রচুর পর্যটক ও পুণ্যার্থী দীঘায় আসবেন। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে যেভাবে সরকারি ও বেসরকারি হোটেল-লজের রুম বুকিং করা হচ্ছে, তাতে ওই সময়ে পর্যটকরা সমস্যায় পড়তে পারেন। তবে বাকি হোটেল-লজগুলিতে বুকিং চলছে। আশা করি, শেষ পর্যন্ত পর্যটকদের থাকার ক্ষেত্রে সমস্যা হবে না আর আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতা পাব। ডিএসডিএ’র মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক অপূর্বকুমার বিশ্বাস বলেন, পাঁচদিন আমন্ত্রিত অতিথিদের থাকার জন্য বেশকিছু হোটেল নেওয়া হচ্ছে। তবে বাকি হোটেল-লজগুলিতে পর্যটকরা থাকতে পারবেন। তাছাড়া দীঘায় ছোট-বড় মিলিয়ে সহস্রাধিক হোটেল-লজ রয়েছে। তাই পর্যটকদের তেমন অসুবিধা হবে না বলেই আমরা মনে করছি।
এদিকে দু’টি হেলিপ্যাড তৈরির জন্য প্রাথমিকভাবে জমি চিহ্নিত করে খরচের আনুমানিক হিসেবও করেছে পূর্তদপ্তর। নিউ দীঘার জাতিমাটিতে স্থায়ী হেলিপ্যাডে মুখ্যমন্ত্রীর কপ্টার ওঠানামা করে। কিন্তু জগন্নাথধাম উদ্বোধনের সময়টা ভিআইপি’র সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে সমস্যা হতে পারে ধরে নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের পক্ষ থেকে দু’টি হেলিপ্যাডের প্রস্তাব জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়েছিল।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন