দক্ষিণ ২৪ পরগনা: মিউজিয়ামের নাম, ‘গোবর্ধনপুর সুন্দরবন প্রত্ন সংগ্রহশালা’। হাতি, গণ্ডার, হরিণের জীবাশ্ম। প্রাচীন যুগের হাতিয়ার। পোড়ামাটির চোখ ধাঁধানো ভাস্কর্য। বিভিন্ন ধরনের পাত্র, খেলনা। কিছু প্রাচীন লিপি। ইত্যাদি রয়েছে সে সংগ্রহশালায়। সবমিলিয়ে প্রায় দশ হাজার প্রত্নসামগ্রী রয়েছে।
যাঁরা প্রাচীনকাল নিয়ে গবেষণা করছেন, তাঁরা একবার হলেও এসেছেন গোবর্ধনপুরের এই মিউজিয়ামে। এই সংগ্রহশালাটি প্রচারের আলোয় আসেনি। খুব বেশি মানুষ এর খবর জানেন না। তবে এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় খবর ছড়িয়েছে। সে মারফত জেনে কানাডা, আমেরিকা, জার্মানি, ইংল্যান্ড থেকে আসছেন অনেকে। বিদেশিদের দৌলতে ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে সুন্দরবনের প্রান্তিক গ্রামটি। সুন্দরবনের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করতে অনেকে এই সংগ্রহশালারই শরণাপন্ন হচ্ছেন।
বিশ্বজিৎ সাহু পেশায় মৎস্যজীবী। কিন্তু আগ্রহ এবং ভালো লাগার বিষয় প্রত্নসামগ্রী। ছোট থেকেই গ্রামের নানা জায়গা থেকে দুর্মূল্য এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব সমৃদ্ধ নিদর্শন খুঁজে খুঁজে বাড়িতে আনতেন। এভাবে তিল তিল করে তৈরি করে ফেলেছেন একটি মিউজিয়াম। পাথরপ্রতিমার জি প্লটের গোবর্ধনপুর গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিতবাবুর এই কাজ চমকে দিয়েছে দেশ-বিদেশের গবেষকদের। মুগ্ধ করেছে প্রত্নতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের। মিউজিয়ামের সম্ভার দেখতে ভিড় করছেন সাধারণ মানুষও।
পাথরপ্রতিমা ব্লকের এই গ্রাম বাংলাদেশ তথা ভারতীয় উপমহাদেশের অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নস্থল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। ভাঙন কবলিত এই গ্রামের পার্শ্ববর্তী উপকূল অঞ্চল থেকে পাওয়া গিয়েছে অসংখ্য প্রত্নসামগ্রী। সেসব সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন বিশ্বজিৎবাবু।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন