কলকাতা: দু’জনেই স্প্যানিয়ার্ড। তবে স্বভাবে সম্পূর্ণ বিপরীত। মোহন বাগান সুপার জায়ান্ট কোচ হোসে মোলিনা শান্ত, স্থিতধী। ম্যাচের ফলের সঙ্গে তাঁর বডি ল্যাঙ্গুয়েজ কদাচিৎ মেলে। কিন্তু বেঙ্গালুরু এফসি’র মাস্টারমাইন্ড জেরার্ড জারাগোজা অনেক বেশি চড়া ধাতের। ডাগ-আউটে সবসময় তিনি থাকেন চাজর্ড-আপ। তবে আইএসএল ফাইনালের ২৪ ঘণ্টা আগে অবশ্য দুই কোচই খোশমেজাজে ধরা দিলেন। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রতিপক্ষ কোচের হয়ে দোভাষীর ভূমিকাতেও দেখা গেল জারাগোজাকে। তবে মাঠের বাইরে বিনয়ী হলেও শনিবার কাপ যুদ্ধের লড়াইয়ে একে অপরকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ দুই স্প্যানিশ কোচ।
ভারতীয় ফুটবলে দ্বিতীয় ইনিংসে ইতিমধ্যেই লিগ-শিল্ড জয়ের স্বাদ পেয়েছেন হোসে মোলিনা। এবার তাঁর সামনে সুযোগ রয়েছে ডাবলের। শনিবার বিএফসি’কে হারাতে পারলেই দ্বিতীয় দল হিসেবে লিগ-শিল্ড ও আইএসএল ট্রফি জিতবে মোহন বাগান। গতবার আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের প্রশিক্ষণে শিল্ড জিতেও ফাইনালে মুম্বই সিটির কাছে হারতে হয়েছিল সবুজ-মেরুন-ব্রিগেডকে। এবার অবশ্য ঘরের মাঠে কাপ জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী শুভাশিসরা। কোচ মোলিনাও অতীত পরিসংখ্যান ভুলে ইতিহাস গড়তে বদ্ধপরিকর। তাঁর কথায়, ‘আগে কী হয়েছে, তা নিয়ে চিন্তিত নই। আমরা ইতিমধ্যেই লিগ-শিল্ড ঘরে তুলেছি। গোটা মরশুম ছেলেরা দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে। শনিবার সেই ছন্দ বজায় রেখে কাপ জিততে চাই।’
শনিবার ফাইনালে হোম অ্যাডভান্টেজ কাজে লাগানোই লক্ষ্য সবুজ-মেরুন স্প্যানিশ কোচের। তাঁর সংযোজন, ‘ঘরের মাঠে নিজেদের দর্শকের সামনে খেলাটা অবশ্যই আমাদের কাছে বড় প্রাপ্তি। তবে জিততে হলে সেরাটা উজাড় করে দিতেই হবে। ছেলেরা তৈরি। বিএফসি যথেষ্ট ভালো দল। ওদের আপফ্রন্ট অনেক বেশি শক্তিশালী। তাই আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।’
চলতি মরশুমে চতুর্থবারের জন্য একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামছে দু’দল। ডুরান্ড কাপের সেমি-ফাইনাল শেষ হয় ২-২ গোলে। তবে টাই-ব্রেকারে শেষ হাসি হাসে মোহন বাগান। এমনকী, দু’বছর আগে আইএসএল ফাইনালে পেনাল্টি শ্যুট-আউটে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল সুনীলদের। তাই শনিবার অনেকেই এই ম্যাচকে তাদের জন্য প্রতিশোধের লড়াই হিসেবে দেখছেন। কোচ জারাগোজা অবশ্য জানিয়ে দিলেন, ‘কলকাতা আমাদের সেকেন্ড হোম। তাই এখানে ফাইনাল খেলতে ভালোই লাগবে। যুবভারতীতে মোহন বাগানের বিরুদ্ধে লড়াই সবসময় চ্যালেঞ্জের। তার জন্য আমরা প্রস্তুত। গত এক দশকে এটি আমাদের চতুর্থ ফাইনাল। তাছাড়া গতবার ১১ এপ্রিল ঘরের মাঠে মোহন বাগানের কাছে চার গোলে হেরেছিলাম। আর ঠিক এক বছর পর ফাইনাল খেলতে নামছি। এটাই বেঙ্গালুরু। হারার আগে হারে না।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন