আলিপুরদুয়ার: ছিঁচকে
চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ আলিপুরদুয়ার জেলা সদর ও রেল জংশন এলাকার বাসিন্দারা।
গত এক সপ্তাহে দুই এলাকায় চারটি চুরি হয়েছে। কিন্তু দুষ্কৃতীরা ধরা না পড়ায়
চাপ বাড়ছিল পুলিসের উপর। অবশেষে শুক্রবার রাতে পুলিস জেলা সদরের চৌপথি
এলাকায় চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস জানিয়েছে,
অসমের গুয়াহাটির পল্টন বাজারের বাসিন্দা ধৃত যুবকের নাম সঞ্জয় দাস।
এই
চুরির ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিসের হাতে যে তথ্য এসেছে তাতে জানা গিয়েছে
রাতের প্যাসেঞ্জার ট্রেনে এই ছিঁচকে চোরেরা আসছে অসম থেকে। রাতভর জংশন ও
জেলা সদরে অপারেশন চালিয়ে ফের ভোরের প্যাসেঞ্জার ট্রেনে অসমে চলে যাচ্ছে।
সূত্রের খবর, ভোর রাতে জংশন থেকে গুয়াহাটি পর্যন্ত একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেন
আছে। ফিরতি সেই ট্রেনটিই আবার জংশনে আসে রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ। রাতে ওই
ট্রেনেই আলিপুরদুয়ারে আসছে অসমের ছিঁচকে চোরেরা। রাতে অপারেশন চালিয়ে ফের
ভোরের সেই প্যাসেঞ্জার ট্রেনে অসমে চম্পট দিচ্ছে।
ভিনরাজ্যের ওই ছিঁচকে
চোরেরা অভিনব কায়দায় জানালার ছিটকিনি খুলে ও লোহার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকছে।
ঘরে ঢুকে মোবাইল, ঘড়ি, ল্যাপটপ, আলমারিতে থাকা নগদ টাকা ও সোনার গয়না
হাতিয়ে নিমেষে হাওয়া হয়ে যাচ্ছে। অনেকেরই দাবি, চুরির সময় কেউ যাতে টের না
পায় সেজন্য দুষ্কৃতীরা ঘুমন্ত লোকজনের উপরে রাসায়নিক বস্তু স্প্রে করেও
অপারেশন চালাচ্ছে।
বাসিন্দাদের কাছে চুরির ঘটনার অভিযোগ পেয়েই তদন্তে
নামে পুলিস। পুলিস তদন্তে এও জানতে পারে দুষ্কৃতীরা জংশনে ট্রেন থেকে নেমেই
ভবঘুরের পোশাকে ঘুরে বেড়ায়। তারপরে কাজ হাসিল হয়ে গেলেই ভালো পোশাক পরে
ফের ভোরের ট্রেন ধরে ফিরে যাচ্ছে অসমে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন