কলকাতা: একদিকে বিশ্বজুড়ে ভূরাজনৈতিক টালমাটাল অবস্থা। অন্যদিকে আমেরিকার শুল্ক-যুদ্ধ। সব মিলিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে গাড়ি বাজার কতটা এগবে, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যাচ্ছে গাড়ি উৎপাদক সংস্থাগুলির। এদিকে ভারতের মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে যাত্রীবাহী গাড়ির বাজার যে খুব ভালো গিয়েছে, তা বলা যাবে না। বরং অনেকটাই চাঙ্গা ছিল দু’চাকা গাড়ি। তবু চলতি অর্থবর্ষে আশা, এবার দেশীয় বাজার চাঙ্গা থাকবে সব রকমের গাড়ির ক্ষেত্রেই। গাড়ি উৎপাদক সংস্থাগুলি এই বিষয়ে একাধিক যুক্তিও সামনে এনেছে।
এদেশের গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলির সংগঠন
সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (সিয়াম) তাদের বিক্রি
সংক্রান্ত রিপোর্ট সামনে এনেছে। দেখা যাচ্ছে, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দেশে
যাত্রীবাহী গাড়ি বিক্রি হয়েছে প্রায় ৪৩ লক্ষ ২ হাজার। তার আগের বছরের
তুলনায় বিক্রি বেড়েছে ২ শতাংশ। এদিকে গত অর্থবর্ষে ভারত থেকে রপ্তানি
হয়েছিল ৭ লক্ষ ৭০ হাজার যাত্রীবাহী গাড়ি। বৃদ্ধির হার ১৪ শতাংশ। সিয়াম
বলছে, গত অর্থবর্ষে দেশীয় বাজারে স্কুটার, স্কুটি, মপেড এবং বাইক মিলিয়ে
দু’চাকা গাড়ি বিক্রি হয়েছিল ১ কোটি ৯৬ লক্ষ। তার আগের অর্থবর্ষের তুলনায়
বিক্রি বাড়ে ৯.১ শতাংশ। দু’চাকার রপ্তানি বাড়ে ২১.৪ শতাংশ। সংস্থাগুলির
আশঙ্কা, রপ্তানির ক্ষেত্রে গত অর্থবর্ষে যে চাঙ্গা বাজার পাওয়া গিয়েছিল, তা
এবার মিলতে নাও পারে।
দেশীয় বাজারে কেন চাঙ্গা থাকার আশা করছে
সংস্থাগুলি? এর পিছনে প্রধান তিনটি কারণ সামনে এনেছে তারা। প্রথমত, চলতি
অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় সরকার ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ে যে আয়কর ছাড় ঘোষণা
করেছে, তার সুফল মিলবে গাড়ি বাজারে। নগদ জোগান বাড়ায় গাড়ি কিনতে আগ্রহী
হবেন ক্রেতারা। দ্বিতীয়ত, ইতিমধ্যেই পরপর দু’বার রেপো রেট কমিয়েছে রিজার্ভ
ব্যাঙ্ক। ইতিমধ্যেই মোট ০.৫ শতাংশ রেপো রেট কমেছে। ব্যাঙ্ক ও আর্থিক
প্রতিষ্ঠানগুলির সুদের হার নির্ভর করে এই রেটের উপরই। তাই গাড়িঋণে ব্যাঙ্ক ও
অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলি সুদের হারও কমাবে বলে আশা জাগছে।
তৃতীয়ত,
আবহাওয়া দপ্তর মনে করছে, এবার বর্ষা ভালো হবে। দেশে পর্যাপ্ত বর্ষা হলে
গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হয়, যার প্রভাব পড়ে শহরেও। গাড়ি ব্যবসা সেই সুফল
পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন