নয়াদিল্লি: বাম ঐক্যে চিড়। আর সেই ‘সুযোগ’ নিয়েই ন’বছর বাদে দিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) বাম দুর্গে ফাটল ধরাল গেরুয়া শিবির। ছাত্র সংসদের যুগ্ম সম্পাদক পদ ছিনিয়ে নিল গেরুয়া শিবিরের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)। যদিও ছাত্র সংসদের অন্য তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ সভাপতি, সহ সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক রয়ে গিয়েছে বামেদের দখলেই। কিন্তু সেখানেও ব্যবধান অনেক কমেছে।
সোমবার এসএফআই জানিয়েছে, বাম জোটে চিড়
ধরার কারণেই জেএনইউয়ে শক্তি বেড়েছে গেরুয়া শিবিরের। বামেরা যদি এককাট্টা
হয়ে লড়াই করত, তাহলে ফলাফল অন্য হতো। অন্যদিকে বিদ্যার্থী পরিষদ রীতিমতো
চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েই জানিয়েছে, পরবর্তী নির্বাচনে জেএনইউ ছাত্র সংসদের চারটি
পদেরই দখল নেবে তারা। যদিও ২০০০-০১ আর্থিক বছর ভোটের পর এবিভিপির ভাগ্যে
জেএনইউ ছাত্র সংসদের সভাপতির শিকে ছেঁড়েনি। রবিবার রাত আড়াইটের সময় ছাত্র
সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।
এবারের নির্বাচনে
সিপিএমের ছাত্র শাখা এসএফআই এবং সিপিআইয়ের এআইএসএফ একদিকে লড়েছিল। তাদের
সঙ্গে ছিল পিএসএ এবং দলিতপন্থী ছাত্র সংগঠন বাপসা। এই জোটে আর এক বামপন্থী
ছাত্র সংগঠন সিপিআই(এমএল)এর আইসাকে তারা শামিল করেনি। আইসা লড়েছে ডিএসএফের
সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে। এবিভিপি একাই লড়েছে। বাম রাজনৈতিক মহলের দাবি,
বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি কার্যত দু’টো ‘ব্লক’ করে লড়েছে। আদতে তার সুবিধে
পেয়েছে গেরুয়া শিবির। এবারের ভোটে সভাপতি পদে জয়ী হয়েছেন আইসার নীতিশ
কুমার। সহ সভাপতি পদে জয়ী হয়েছেন ডিএসএফের মনীশা। সাধারণ সম্পাদক পদে জয়ী
হয়েছেন ডিএসএফের মুনতেহা ফতিমা। অর্থাৎ, দেখা যাচ্ছে, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ
পদ বামেদের হাতে রয়েছে ঠিকই। কিন্তু সিপিএমের ছাত্র সংগঠন যে জোটে ছিল,
তার কোনও প্রার্থীই জয়ী হননি। যুগ্ম সম্পাদক পদে জয়ী হয়েছেন এবিভিপির বৈভব
মীনা। ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষের নির্বাচনে বিদ্যার্থী পরিষদের সৌরভ শর্মা
শেষবার এই পদে জয়ী হয়েছিলেন জেএনইউয়ে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন