শিলিগুড়ি: বছর
ঘুরলেই ছাব্বিশের নির্বাচন। তাতে পাখির চোখ শিলিগুড়ির তিনটি বিধানসভা
কেন্দ্র। তাই ভুয়ো ভোটারের খোঁজে আরও জোরদার অভিযানে নামছে তৃণমূল
কংগ্রেস। সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির নাম ‘বাংলার ভোটরক্ষা অভিযান’। এতে ব্যবহার
করা হবে অ্যাপস। শুক্রবার শিলিগুড়িতে দলের জেলা পার্টি অফিসে সাংবাদিক
সম্মেলন এ কথা বলেন তৃণমূল কংগ্রেসের দার্জিলিং জেলা সভানেত্রী (সমতল)
পাপিয়া ঘোষ। একই সঙ্গে পদ্ম শিবিরের বিরুদ্ধে অশান্তি পাকানোর চেষ্টার
অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা চেয়ারম্যান (সমতল) অলোক
চক্রবর্তী। তৃণমূলের দার্জিলিং জেলা কমিটির সমতলভাগের অধীনে শিলিগুড়ি,
মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি ও ফাঁসিদেওয়া এই তিনটি বিধানসভা কেন্দ্র। এছাড়া
ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি বিধানসভা কেন্দ্রের একাংশ এই জেলা কমিটির অধীনে। যা
শিলিগুড়ি পুরসভার সংযোজিত এলাকায়। এই গোটা এলাকায় জনসংযোগ বাড়াতে এবং
ভুয়ো ভোটার ধরতে অভিযানে নামছে তৃণমূল। সাংবাদিক সম্মেলনে সভানেত্রী
বলেন, শিলিগুড়ির তিনটি এবং ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির সংযোজিত এলাকা ধরে বুথ
সংখ্যা প্রায় ১১১০টি। জেলাস্তরে বুথ লেভেল এজেন্ট-১, ব্লক স্তরে বুথ লেবেল
এজেন্ট-২ নিয়োগ করা হয়েছে। জেলায়, ব্লক, অঞ্চল ও টাউন স্তরে তৈরি করা
হয়েছে বিশেষ তদারকি কমিটি। প্রতিটি স্তরে ইলেক্ট্রোরাল সুপারভাইজার নিয়োগ
করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পদগুলিতে নিয়োগ করা হয়েছে দলের দক্ষ, অভিজ্ঞ,
মিশুকে যুবক-যুবতীদের। ইতিমধ্যে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তাঁর সচিত্র
ভোটার তালিকা নিয়ে প্রতিটি বাড়িতে যাবেন। ভুয়ো ভোটার সংক্রান্ত তথ্য
সংগ্রহ করে অ্যাপের মাধ্যমে দলের রাজ্য কমিটির কাছে পাঠাবেন।
ছাব্বিশে
ভোট যাতে স্বচ্ছ্বতার সঙ্গে হয়, সেটাই তূণমূলের লক্ষ্য বলে পাপিয়া জানান।
বলেন, সম্প্রতি দিল্লির নির্বাচনে ভোটার তালিকায় কারচুপি করে সাফল্য
পেয়েছে বিজেপি। এখানে যাতে গেরুয়া শিবির সেই খেলা খেলতে না পারে সেজন্যই
ভোটরক্ষা অভিযানে নামা হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনমুখী প্রকল্পগুলির সুযোগসুবিধা মিলছে কি না সে বিষয়েও
তথ্য সংগ্রহ করবেন কর্মীরা। সাংবাদিক সম্মেলনে যুব’র জেলা সভাপতি নির্ণয়
রায়, মহিলা সভানেত্রী সুস্মিতা বসু প্রমুখ ছিলেন। দলের জেলা চেয়ারম্যান
বলেন, মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো এখানেও বিজেপি অশান্তি পাকানোর চেষ্টা
করছে। এর বিরুদ্ধে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন