কলকাতা: বেশিরভাগ স্কুলেই চলছে পরীক্ষা। তাতেও শুক্রবার হিমশিম খেলেন শিক্ষকরা। প্রায় একই ছবি স্কুলে স্কুলে। এখন প্রশ্ন, ক্লাস সম্পূর্ণ চালু হলে কি হবে? কীভাবে সামলানো যাবে পরিস্থিতি। কপালের ভাঁজ আরও স্পষ্ট হচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষের।
চাকদহ পূর্বাচল বালিকা বিদ্যাপীঠের ৩০ জন শিক্ষিকার মধ্যে চাকরি বাতিল হয়েছে সাতজনের। ছাত্রী সংখ্যা ২০০০। বিভিন্ন ক্লাসে শুরু হয়েছে পরীক্ষা। পরীক্ষার খাতা দেখার কাজও চলছে। স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা তন্দ্রা মুখোপাধ্যায় বলেন, স্কুল পরিচালনায় সমস্যা হবে। হালিশহরের হাজিনগর আদর্শ হিন্দি বিদ্যালয়ে ৪৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। চাকরি গিয়েছে ১৮ জনের। সাড়ে তিন হাজার ছাত্রছাত্রী নিয়ে কীভাবে স্কুল চলবে চিন্তার কর্তৃপক্ষ। ভাটপাড়ার কাঁকিনাড়া হাইস্কুলের ৩৬ জন শিক্ষকের মধ্যে ১২ জনের চাকরি বাতিল হয়েছে। সেখানেও একই সমস্যা।
আমতা ২ নং ব্লকের ডিএমবি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষক চাকরিহারা হয়েছেন। শুক্রবার চাকরিহারা ৫ জন শিক্ষক বিদ্যালয়ে না এলেও একজন শিক্ষক এসেছিলেন। বিদ্যালয়ে প্রথম ইউনিট টেস্টের পরীক্ষা ছিল। তিনি পরীক্ষার ডিউটি করেছেন। যে শিক্ষকরা আসেননি তাঁদের দায়িত্ব অন্য শিক্ষকরা ভাগ করে নিয়েছেন। শ্যামপুরের গুজারপুর সুরেন্দ্রনাথ বিদ্যাপীঠের চাকরিহারা ৩ জন শিক্ষক বিদ্যালয়ে আসেননি। প্রধান শিক্ষক নিলেশ পাখিরা জানান, শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব নিয়ে পরীক্ষা সামলাতে হচ্ছে। পাঁচলা আজিম মোয়াজ্জম উচ্চ বিদ্যালয়ের চাকরিহারা ৪ জন শিক্ষক শিক্ষিকা শুক্রবার বিদ্যালয়ে আসেননি। ভাটোরা ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক ও একজন ল্যাব অ্যাসিস্ট্যান্ট চাকরি হারিয়েছেন। চাকরি বাতিলের তালিকায় উলুবেড়িয়ার বেলকুলাই চন্দ্র কুমার অধর চন্দ্র বিদ্যাপীঠের ২ জন শিক্ষক এবং একজন শিক্ষাকর্মী আছেন।
২০১৬-তে নিয়োগ পেয়েছিলেন বারাসত পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলার দোলন বিশ্বাস। তাঁর চাকরি বাতিল হয়েছে। বারাসত বিবেকানন্দ আদর্শ বিদ্যাপীঠের কর্মরত ছিলেন দোলন। শুক্রবারও স্কুলে এসেছিলেন রিষড়া বিদ্যপীঠের ইংরেজির শিক্ষক দেবদত্ত বৈদ্য। ইংরেজি পড়িয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবেই পড়ুয়াদের কোর্স শেষ করার জন্য তাঁর ওই উদ্যোগ। তাঁকে নিয়ে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছিল হিন্দিমাধ্যম স্কুলের কর্তাদের। দেবদত্ত বলেন, নিখাদ দায়বদ্ধতা থেকেই স্কুলে এসেছি। শিক্ষার্থীদের অনেকটা কোর্স বাকি আছে। স্কুলের প্রধান শিক্ষক রোশন মাল বলেন, আমার স্কুলের সিংহভাগ শিক্ষকের চাকরিই বাতিল হয়েছে। কেই যদি ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের সাহায্য করতে চান, তাতে অন্যায় কিছু নেই।
স্কুলে যাননি হুগলির কানাগড়ের অমিত মণ্ডল। চন্দ্রহাটি স্কুলের শিক্ষক এমএ পড়ার সময়ে দুই দল দুষ্কৃতীর গুলির লড়াইয়ের মাঝে পড়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন। প্রায় ১২ বছর আগে সেদিন মরেও যেতে পারতেন। শুক্রবার দিনভর সেই কথায় ভেবেছেন। তিনি বললেন, কীভাবে বাড়িতে হাঁড়ি চড়বে জানি না। ছোট্ট মেয়েটার কি হবে, ভাবতেও পারছি না। চাকরি যাওয়াও মৃত্যুর সমান। কোল্যাঞ্জিও কার্সিনোমা নামে জটিল রোগে আক্রান্ত কাঁচরাপাড়া মিউনিসিপাল পলিটেকনিক হাই স্কুলের শিক্ষক আব্দুল আলামিন। তাঁর চাকরির বিষয়টি মানবিকভাবে দেখতে অনুরোধ জানিয়েছেন ওই শিক্ষক। সমস্যায় পড়েছে কলকাতার স্কুলগুলিও। যাদবপুর বিদ্যাপীঠে এক শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী, যোধপুর পার্ক বয়েজ স্কুল, বেলেঘাটা শুঁড়াকন্যা বিদ্যাপীঠ প্রভৃতি নামী স্কুলেও একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর চাকরি গিয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন