নয়াদিল্লি:
হয়তো ট্রেনে চাপলেন। যাত্রাপথে কোনও জিনিস পছন্দ হল এবং কিনেও ফেললেন।
কিন্তু পকেটে হাত দিতেই খেয়াল হল, বেশি টাকা নিয়ে ট্রেনে চাপেননি। আর
মোবাইলেও নেটওয়ার্ক নেই। ফলে ইউপিআই দূরঅস্ত। পছন্দের জিনিস কি তাহলে ফেরত
দিয়ে দিতে হবে? চিন্তা নেই। এবার ট্রেনের কামরাতেই বসানো হচ্ছে এটিএম।
চলন্ত ট্রেনে ডেবিট কার্ড দিয়ে যাত্রীরা বিনা বাধায় তুলতে পারবেন
প্রয়োজনীয় টাকা। ফলে মোবাইল নেটওয়ার্কের অভাবে ইউপিআই লেনদেনের সমস্যা
তো মিটবেই, এমনকী অযথা বেশি নগদ নিয়ে ট্রেনে ওঠার দরকারও ফুরোবে। পাইলট
প্রজেক্ট হিসেবে পঞ্চবটী এক্সপ্রেসে এমনই অভিনব বন্দোবস্ত করেছে মধ্য রেল
কর্তৃপক্ষ, যার পোশাকি নাম ‘এটিএম অন হুইলস’। যদি এতে সাড়া মেলে, তাহলে
ধাপে ধাপে অন্যান্য মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনগুলিতেও এটিএম বসানোর পথে হাঁটবে
রেলমন্ত্রক। বুধবার রেল বোর্ডের শীর্ষ সূত্রে এমনই জানানো হয়েছে।
নন-ফেয়ার
রেভিনিউ (এনএফআর), অর্থাৎ যাত্রী ভাড়া বৃদ্ধি না করে বিকল্প আয়ের
কর্মসূচিতেই রেলমন্ত্রকের এমন উদ্যোগ। মধ্য রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে,
আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে পঞ্চবটী এক্সপ্রেসে এটিএম বসানো হয়েছে। যদি সাড়া
মেলে, তাহলে পাকাপাকিভাবে ট্রেনে এই ব্যবস্থা চালু করে দেওয়া হবে। রেল
বোর্ডের নন-ফেয়ার রেভিনিউ সংক্রান্ত নির্দেশিকা মেনে মধ্য রেলের ভুসাওয়াল
শাখা ১২১১০ মনমাড-সিএসএমটি পঞ্চবটী এক্সপ্রেসে এটিএম বসিয়েছে। সেটির
যাত্রাপথ মহারাষ্ট্রের নাসিক জেলার মনমাড থেকে মুম্বইয়র ছত্রপতি শিবাজি
মহারাজ টার্মিনাস পর্যন্ত। ট্রেনটিতে ব্যাঙ্কিং পরিষেবা দেবে ব্যাঙ্ক অব
মহারাষ্ট্র। জানা যাচ্ছে, গত ২৫ মার্চ সংশ্লিষ্ট সব মহলের সঙ্গেই এই
ব্যাপারে বৈঠক করে মধ্য রেল কর্তৃপক্ষ। সেইমতো গত ২ এপ্রিল এই সংক্রান্ত
সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব জমা দেয় সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক। এরপর গত ১০ এপ্রিল
পরীক্ষামূলকভাবে ওই এক্সপ্রেস ট্রেনে এটিএমটি বসানো হয়। মধ্য রেল
জানিয়েছে, ট্রেনের যে মিনি-প্যান্ট্রি স্পেস রয়েছে, সেখানেই এটিএম
ইনস্টলেশন এরিয়া তৈরি করে মেকানিক্যাল টিম। পরবর্তী ক্ষেত্রে যেসব ট্রেনে
এটিএম বসবে, সেখানেও এই জায়গাটিই ব্যবহার করা হবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন