বেজিং: ৭৫টি দেশের উপর চাপানো পাল্টা শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট রেহাই দেননি শুধু চীনকে। বরং, চীনা পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে ১৪৫ শতাংশ করেছেন। এই অবস্থায় শুক্রবার ফের প্রত্যাঘাত করল বেজিং। মার্কিন পণ্যে শুল্কের বোঝা ৮৪ শতাংশ থেকে আরও বাড়িয়ে এবার ১২৫ শতাংশ করল চীন। শুধু তাই নয়, আমেরিকার শুল্ক চাপানোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় (ডব্লুটিও) আইনি নালিশও ঠুকেছে বেজিং। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রকের তরফে একথা জানানো হয়েছে। ফলে চীন ও আমেরিকার শুল্ক-সংঘাত অব্যাহত। বিশ্বের দুই প্রধান শক্তিধর দেশের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধের ইস্যুতে এই প্রথম মুখ খুললেন চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং। শুক্রবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) প্রতি তাঁর আর্জি, ‘আসুন ওয়াশিংটনের এই একতরফা গুন্ডামির বিরুদ্ধে একসঙ্গে রুখে দাঁড়াই।’
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেড্রো স্যাঞ্চেজের সঙ্গে বেজিংয়ে বৈঠক করেন জিনপিং। ২৭ দেশের ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম সদস্য স্পেন। সেই সূত্রেই চীনের প্রেসিডেন্ট ইউরোপীয় ইউনিয়নকে পাশে পাওয়ার সচেতন চেষ্টা চালান। তিনি বলেন, ‘শুল্ক যুদ্ধ থেকে কেউ জয়ী হবে না। গোটা বিশ্বের বিরুদ্ধে হাঁটার অর্থ নিজেকেই একঘরে করে ফেলা।’ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সুস্থ পরিবেশ ও অর্থনৈতিক বিশ্বায়নকে সুরক্ষিত রাখার স্বার্থে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের একযোগে কাজ করার বার্তা দেন জিনপিং। আর সেই সূত্রেই শুল্ক ইস্যুতে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে ‘একতরফা গুন্ডামি’র অভিযোগ করেন চীনের প্রেসিডেন্ট। এর বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে একযোগে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান করেন তিনি।
আমেরিকার সঙ্গে চলতি বাণিজ্য যুদ্ধের আবহেই ক’দিন আগে প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক আরও মজবুত করার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন জিনপিং। মতবিরোধ কাটিয়ে উঠতে সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও শোনা গিয়েছিল তাঁর মুখে। সেই প্রেক্ষিতেই আগামী সপ্তাহে একযোগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তিনটি দেশে সফর করবেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন