সামশেরগঞ্জ: শান্তি ফিরেছে সামশেরগঞ্জে। জঙ্গিপুর মহকুমার সূতি ও রঘুনাথগঞ্জ সহ অন্যান্য এলাকায় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক। পুলিস কড়া পদক্ষেপ নিতেই ছন্দে ফিরেছে জনজীবন। শনিবার সন্ধ্যার পর নতুন করে কোনও অশান্তি হয়নি। তবে পুলিসি ধরপাকড়ে বিরাম নেই। সূতি ও সামশেরগঞ্জের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত গ্রেপ্তার হয়েছে প্রায় ২২৫ জন। এখন পুলিসের লক্ষ্য একটাই—শিকড় পর্যন্ত পৌঁছনো। কী উদ্দেশ্যে এই সন্ত্রাস? কেন লুটতরাজ? কার নির্দেশে? কোন কোন ব্যক্তি এবং সংগঠন নেপথ্যে? টানা জিজ্ঞাসাবাদ চলছে ধৃতদের।
এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) জাভেদ শামিমের সাফ কথা, ‘যারা অপরাধ করেছে, মদত দিয়েছে... তাদের কাউকে ছাড়া হবে না। প্রয়োজনে পাতাল খুঁড়ে নিয়ে আসব। আইন মেনে প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রাজনীতিক, মৌলবাদী বা এনজিও, যেই থাকুক না কেন, কেউ ছাড় পাবে না। কারা জড়িত, উদ্দেশ্য কী, সবটা বের করব। প্ররোচণা যে ছিল, সেটা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু দ্বিতীয়বার এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সেটা নিশ্চিত করতে হবে।’ এরই মধ্যে অবশ্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাফরাবাদ এলাকা। সিপিএমের মহম্মদ সেলিম ও মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় এলে সামান্য উত্তেজনা ছড়ায়। তারপর ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের তালিকা তৈরি করতে বিডিও এলাকায় পৌঁছলে তাঁকে ঘিরেই শুরু হয়ে যায় বিক্ষোভ, ধাক্কাধাক্কি। পুলিস ও বিএসএফের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে। পাশেই একটি গ্রামে বেশ কিছু যুবক বিএসএফকে লক্ষ্য করে পাথর ও ইট ছুড়তে শুরু করে। বিএসএফ জমায়েত হটাতে পাম্প অ্যাকশন গান থেকে এক রাউন্ড গুলি চালিয়েছে বলে খবর।
ঝুঁকি
নেওয়া যাবে না—এটাই এখন মূল মন্ত্র পুলিস-প্রশাসনের। তাই ইতিমধ্যেই
সামশেরগঞ্জ থানার সমস্ত উপদ্রুত এলাকায় পুলিস পিকেট বসে গিয়েছে। নজরদারি
চলছে ড্রোনের মাধ্যমেও। সিআরপিএফের আইজি এবং বিএসএফের ডিআইজিরাও এলাকা
পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন করেন বিএসএফ ইস্টার্ন কমান্ডের এডিজি রবি গান্ধীও।
এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার সোমবার সামশেরগঞ্জে টহল দেওয়ার পর
বলেন, ‘এ পর্যন্ত ২০০ জনের বেশি গ্রেপ্তার হয়েছে। রাজ্য পুলিসের পাশাপাশি
বিএসএফ এবং আধাসেনার যৌথ টহলদারি চলছে। সর্বত্র রুটমার্চ, নাইট পেট্রোলিং
আছে। নতুন করে কোথাও অশান্তির খবর নেই। দোকানপাট খুলতে শুরু করেছে। দ্রুত
স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে সামশেরগঞ্জ।’ জঙ্গিপুরের পুলিস সুপার আনন্দ রায়
বলেন, ‘পাঁচটি মামলা হয়েছে। চারটি স্বতঃপ্রণোদিত এবং একটি মামলা সাধারণ
মানুষের অভিযোগের ভিত্তিতে।’
এদিন সামশেরগঞ্জ ও ধুলিয়ানের পাশাপাশি
পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন থানা এলাকায় আধাসেনা পাঠিয়ে রুট মার্চ করানো হয়।
গত কয়েক দিন ধরে বহু গুজব আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন এলাকায়। তা
থেকে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। গুজব ঠেকানোর জন্য পুলিস কড়া পদক্ষেপ নিচ্ছে।
যারা এমন ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
বলে জানিয়েছেন পুলিসের শীর্ষ আধিকারিকরা। রবিবার একজন গুজব ছড়িয়েছিল।
পুলিস তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নেয়। তাকে নোটিস ধরানো হয়েছে বলেই জানিয়েছে
পুলিস। এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) জাভেদ শামিমও বলেন, ‘মানুষের কনফিডেন্স বিল্ডিং
এই মুহূর্তে সবথেকে বেশি জরুরি। এখনও অনেক গুজব ছড়াচ্ছে। বাইরের রাজ্য
থেকেও। সেই কারণেই ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। যত বেশি গুজব
ছড়াবে, ততক্ষণ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া খুব কঠিন।’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন