নয়াদিল্লি: ন্যাশনাল হেরাল্ড
আর্থিক তছরুপ মামলায় সোনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার
আদালতে চার্জশিট দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। এই প্রথম কোনও মামলায়
দু’জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা পড়ল। দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতে জমা
দেওয়া ওই চার্জশিটে নাম রয়েছে কংগ্রেসের ওভারসিজ নেতা স্যাম পিত্রোদারও।
বিশেষ আদালতে মামলার শুনানি হবে ২৫ এপ্রিল। এদিকে এদিনই হরিয়ানায় জমি
কেলেঙ্কারি মামলায় সোনিয়ার জামাই রবার্ট ওয়াধেরাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে
এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইডির এই চার্জশিট পেশ
যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। ইডির এই তৎপরতাকে
‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ হিসেবেই ব্যাখ্যা করেছে কংগ্রেস। কংগ্রেসের সাধারণ
সম্পাদক জয়রাম রমেশ ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে লেখেন, ‘ইডির এই পদক্ষেপ রাজনৈতিক
প্রতিশোধ ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
এই ভয় দেখানোর নীতি এখন মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে।’
এপ্রিলের শুরুর দিকে
ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় আদালতে চার্জশিট জমা করেছিল ইডি। এদিন বিশেষ
বিচারক বিশাল গগনে পর্যালোচনা করে ওই চার্জশিট গ্রহণ করেন। তিনি জানান, ২৫
এপ্রিল পরবর্তী শুনানির দিন এই মামলার কেস ডায়েরি দাখিল করার বিষয়টি
নিশ্চিত করতে হবে তদন্তকারী অফিসার এবং ইডির আইনজীবীকে।
এই ন্যাশনাল
হেরাল্ড মামলার সূত্রপাত বিজেপির সুব্রহ্মণ্যম স্বামীর করা মামলার থেকে।
তাঁর অভিযোগ ছিল, ন্যাশনাল হেরাল্ড সংবাদপত্রের প্রকাশনা সংস্থা এজেএলের
বাজারে কোটি কোটি টাকার দেনা ছিল। যার বেশির ভাগটাই কংগ্রেসের কাছ থেকে
নেওয়া। ২০০৮ সালে সংবাদপত্রটির প্রকাশনা বন্ধ হয়ে যায়। ওই অবস্থায় সংস্থাটি
অধিগ্রহণ করেন সোনিয়া, রাহুল এবং শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতাদের ‘ইয়ং
ইন্ডিয়ান প্রাইভেট লিমিটেড’ সংস্থা। এর পর ন্যাশনাল হেরাল্ডের কয়েক হাজার
কোটি টাকার সম্পত্তি ইয়ং ইন্ডিয়ানের দখলে চলে আসে। কোটি কোটি টাকা দেনার
বোঝাও চাপে তাদের ঘাড়ে। এর কিছু দিন পর ‘দেনার টাকা উদ্ধার করা সম্ভব নয়’
বলে কারণ দেখিয়ে কংগ্রেসের তরফে ঋণের টাকা মকুব করে দেওয়া হয়। স্বামীর
যুক্তি ছিল, কংগ্রেস রাজনৈতিক দল। তাই তারা কোনও বাণিজ্যিক সংস্থাকে ঋণ
দিতে পারে না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন