নয়াদিল্লি: দুনিয়ার মধ্যে স্বর্ণ সম্পদের ভরকেন্দ্র ভারতই। ভারতের মতো এত সোনা কোনও দেশবাসী ক্রয় করে না। আর ভারতের মতো এত সোনা কোনও দেশের পরিবারগুলির কাছে সঞ্চিতও নেই। ভারতে পরিবারগুলির কাছে কমবেশি ২৫ হাজার টন সোনা সঞ্চিত রয়েছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল ২০২৫ সালের যে পূর্বাভাস দিয়েছে, সেখানে এই সমীক্ষা রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে।
বলা হয়েছে, ভারতে চলতি আর্থিক বছরে সোনার চাহিদা ও কেনার সম্ভাবনা ৭০০ থেকে ৮০০ টনে পৌঁছতে চলেছে। যা সর্বকালীন রেকর্ড। ভারতীয়রা যে পরিমাণ সোনা নিজেদের সম্পদ হিসেবে সঞ্চয় করে রেখেছে, সেই পরিমাণ সোনা পৃথিবীর সবথেকে ধনী ১০টি রাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কাছেও নেই। রিজার্ভ ব্যাঙ্কে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত সঞ্চিত সোনার পরিমাণ ৮৭৬ টন। সেখানে মানুষের কাছে সোনা সঞ্চিত রয়েছে ২৫ হাজার টন। আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের কাছে সঞ্চিত সোনার পরিমাণ ৮ হাজার ১৩৩ টন। জার্মানির কাছে ৩ হাজার ৩৫২ টন। আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডারের কাছে সোনার পরিমাণ ২ হাজার ৮১৪ টন। ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসেব, এক বছরে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ৭৩ টন সোনা কিনেছে। যা পোলান্ডের পর সর্বোচ্চ। সোনার দাম যতই বাড়ছে, সোনার চাহিদা ততটাই বাড়ছে ভারতে। আর এই চাহিদার কারণেই বিভিন্ন দেশ ভারতে সোনা রপ্তানিরও প্রবল প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
ভারত সরকার গত বছরই সোনা আমদানির উপর শুল্ক কমিয়ে করেছে ৬ শতাংশ। আর্থিক বছরের শেষে অর্থমন্ত্রক দেখছে গত বছরের জুলাই মাস থেকে ভারতে সোনার স্মাগলিং কমে যাচ্ছে। চাহিদা থাকলে সোনার চোরাচালান বেড়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু যেহেতু এক ধাক্কায় আমদানি শুল্ক অনেক কমে যায়, তাই আইনিভাবে সোনা আমদানি করে বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। একদিকে যেমন এই প্রবণতা এবং অন্যদিকে আবার নাগরিকদের সোনা ক্রয় উত্তরোত্তর বেড়েছে। আর এই কারণেই চলতি আর্থিক বছরের মাঝামাঝি সময়ে আরও একবার সোনার আমদানি শুল্ক কমানোর কথা ভাবছে সরকার। সেই লক্ষ্যে আলোচনাও শুরু হয়েছে। ভারতের গয়না সংগঠনগুলির পক্ষ থেকেও এই মর্মে দাবি জানানো হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন