রামপুরহাট: রামপুরহাট শহরের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনায় শুক্রবার রাতে পুলিস একজনকে গ্রেপ্তার ও দুই নাবালককে আটক করে। শনিবার দুই নাবালককে সিউড়ির জুভেইনাল জাস্টিস বোর্ডে পাঠানো হয়। অপরজনকে রামপুরহাট আদালতে তোলা হলে বিচারক ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। এফআইআরে দুই গোষ্ঠীর দুই তৃণমূল নেতারও নাম রয়েছে। গত তিনদিন ধরে ক্ষমতা দখলকে ঘিরে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর বিবাদের জেরে উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে ৪ নম্বর ওয়ার্ড। একদিকে প্রাক্তন কাউন্সিলার আব্বাস হোসেন, অপরদিকে তাঁর নিজের দাদা আরশাদ হোসেন। বেশ কয়েকমাস ধরে তাঁদের বিবাদ চলছে। তার জেরে ক্ষুব্ধ ওয়ার্ডের শান্তিপ্রিয় বাসিন্দারা।
ঘটনার সূত্রপাত বুধবার গভীর রাতে।
ওইদিন এলাকার তৃণমূল নেতা তথা ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার আব্বাস হোসেন
গোষ্ঠীর মৃত্যেন হাজরার বাড়ির সামনে বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। তাঁর বাড়ির
জানালার কাচ ভেঙে যায়। আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই ঘটনায়
থানায় অভিযোগ জানান মৃত্যেন। পুলিস এলাকারই দু’জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য
থানায় নিয়ে যায়। পরে অবশ্য ছেড়ে দেয়। এরই মধ্যে শুক্রবার মৃত্যেনের ভাই
জিতেন হাজরার বাড়ির পিছন থেকে দু’টি তাজা বোমা উদ্ধারকে কেন্দ্র করে
রণক্ষেত্রে পরিণত হয় এলাকা। দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি ও ইটবৃষ্টি শুরু হয়।
ইটের আঘাতে মাথা ফেটে যায় জিতেনের। জখম হন আরও একজন। পরে প্রচুর পুলিস এসে
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মৃত্যেন সাফ জানান, আমরা প্রাক্তন তৃণমূল
কাউন্সিলার আব্বাসের দিকে থাকি। হয়তো আরশাদ সহ্য করতে পারছে না বলেই এসব
করাচ্ছে। ওদের দুই ভাইয়ের পারিবারিক ঝামেলা চলছে। মাঝে আমাদের মতো তৃণমূল
কর্মীদের উপর অত্যাচার নেমে আসছে।
আব্বাসও সংবাদ মাধ্যমে পরিষ্কার
জানান, এখানে আমাদের দলেরই ক্ষমতা দখলের লড়াই চলছে। দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব
প্রসঙ্গে তাঁর সাফ জবাব, কিছুটা বটে। শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করলে হবে?
অন্যদিকে আরশাদ জানান, ওয়ার্ডটাকে ইচ্ছে করে অশান্ত করা হচ্ছে। কিছু ছেলে
বাইরে থেকে বিজেপি নেতাদের নিয়ে এসে বৈঠক করেছেন। তাঁরা এলাকার যুবকদের
উস্কানি দিচ্ছেন।
এদিকে শুক্রবারই ওয়ার্ডের এক বাসিন্দা থানায় এফআইআর
দায়ের করেন। তাতে আরশাদ, আব্বাস হোসেন, ঋশি শেখ, আরমান শেখ ও সাহিল
হোসেনের নাম রয়েছে। পুলিস দু’টি অভিযোগ মিলিয়ে দু’জনকে আটক ও ঋষি শেখ
নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে মারাত্মকভাবে মারধর, খুনের
চেষ্টা, ষড়যন্ত্র সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। পুলিস জানিয়েছে,
এফআইআরে থাকা অভিযুক্তদেরও গ্রেপ্তার করা হবে। শুক্রবার বাসিন্দাদের ভয়
কাটাতে ও আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলতে ওয়ার্ডে টহল দেয় রামপুরহাট মহকুমা পুলিস
আধিকারিক, আইসি সহ অন্যান্য কর্তারা। সেই সঙ্গে এলাকার নিরাপত্তা বাড়িয়ে
তুলতে চারটি অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এদিকে এফআইআর প্রসঙ্গে
আরশাদ বলেন, আমি বয়স্ক, অসুস্থ। আমি কী কারও সঙ্গে মারপিট করতে যাব? কেউ
যদি আমাকে ফাঁসিয়ে দেয়, তাহলে কী করার আছে। অন্যদিকে আব্বাস বলেন, এফআইআরের
বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। এদিকে শনিবার সকালে এলাকার মহিলা, পুরুষ
নির্বিশেষে বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করে শান্তিতে বসবাসের
আবেদন জানান। তাঁরা বলেন, দু’পক্ষই আমাদের নিয়ে টানাটানি করছে। পরে সংবাদ
মাধ্যমে আশিসবাবু বলেন, না আরশাদ, না আব্বাস। এবার থেকে ওয়ার্ডটি আমিই
দেখব। সেই মতো নিজের মোবাইল নম্বরও তাঁদের দিয়েছি। যেকোনও সমস্যায় আমার
সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন