কলকাতা: কোনও কিছু ধরার জন্য বাম হাতটা শূন্যে বাড়িয়ে দেন নৈহাটির রঞ্জিতবাবু! এখনও ডান হাতের বিভিন্ন অংশে যন্ত্রণা বোধ করেন ভদ্রেশ্বরের পাঁচুগোপাল বিশ্বাস! কে বলবে, প্রথমজনের বাম হাতটাই নেই সেই ২০২৩ সালে কারখানায় ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনার দিন থেকে। চটকলের শ্রমিক রঞ্জিত দাস সেদিন এক মেকানিকের সঙ্গে কাজ করছিলেন মেশিনে। বাম হাতটা মেশিনের ভিতরে থাকা অবস্থায় হঠাৎ সেটি চলতে শুরু করে। সঙ্গে নিয়ে যায় রঞ্জিতবাবুর বাম হাত! তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। বাম হাত চলে গেলেও তার ‘অশরীরী’ অস্তিত্ব রয়ে গিয়েছে রঞ্জিতবাবুর সঙ্গে। না হলে ভাবা যায়, যে হাতটাই নেই, তার আবার ব্যথা! তাও আবার হাতের সম্পূর্ণ অস্তিত্ব অনুভব করেই!
২০২৪ সালে মিলে কাজ করার সময় মেশিন কেড়ে নেয় পাঁচুগোপালবাবুর ডান হাত। যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে নিজের চোখে দেখলেন, ডান হাতটা ছিঁড়ে অনেক দূরে চলে যাচ্ছে মেশিনের সঙ্গে। এখনও দুঃস্বপ্নে ফিরে ফিরে আসে সেদিনের ঘটনা। দিনে-দুপুরে তাঁর মনে হয়, ডান হাতখানা যেখানে থাকার কথা, সেখানেই আছে! দুর্ঘটনা বা অসুখ-বিসুখে অঙ্গহানির পরও কিছু ক্ষেত্রে তা কর্তা বা কর্ত্রীকে ছেড়ে যেতেই চায় না! বারবার মনে করিয়ে দেয়, সে আছে! চিকিৎসা পরিভাষায় এই অদ্ভূত অসুখকে বলা হয় ‘ফ্যান্টম লিম্ব সিনড্রম’। হাত, পা এমনকী তুলে ফেলা বা পড়ে যাওয়া দাঁত নিয়েও বিরল কয়েকটি ক্ষেত্রে এমন বিচিত্র অনুভূতি হয়।
বর্তমানে শিয়ালদহ ই এস আই-এর ইনস্টিটিউট অব পেইন ম্যানেজমেন্টে চিকিৎসা চলছে এই দুই শ্রমিকের। চিকিৎসায় রঞ্জিতবাবুর ‘অশরীরী হাত’ ছোট হতে হতে আঙুলে এসে
ঠেকেছে। মানে কাটা যাওয়া হাতের অস্তিত্ব এখন প্রায় অনুভবই করেন না রঞ্জিতবাবু। তবে এখনও টের পান হাতের আঙুলের ডগাগুলি। এমনকী, এই ধরনের অসুখে কনুইয়ের উপর কোথাও হাত দিলে বুড়ো আঙুল, কোথাও হাত দিলে তর্জনী, কোথাও হাত দিলে আবার মধ্যমার অনুভূতি হয়!
পাঁচুগোপালবাবু কাটা হাত অবশ্য এখনও উবে যায়নি! চিকিৎসায় কমেছে মাত্র চার ইঞ্চি মতো! ইনস্টিটিউটের ইনচার্জ ডাঃ গার্গী নন্দী বলেন, ‘রঞ্জিতবাবুর প্রায় ৬ মাস ধরে চিকিৎসা চলছে। তাই ফলও ভালো মিলেছে। পাঁচুগোপালবাবুর চিকিৎসা চলছে মাত্র ২ মাস। তাতেই কাল্পনিক হাত চার ইঞ্চি মতো কমেছে।’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন