নয়াদিল্লি: প্রবল বিরোধিতা সত্ত্বেও সংসদের দুই কক্ষেই পাশ হয়েছে ওয়াকফ বিল। শনিবার তাতে সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুও। ফলে এই বিল আইনে পরিণত হয়ে গিয়েছে। ওয়াকফ আইনে সমর্থনের পর থেকে বিজেপির শরিক দলগুলির মধ্যে তুমুল বিদ্রোহ মাথাচাড়া দিয়েছে। তাতে কার্যত জেরবার অবস্থা জেডিইউ সুপ্রিমো তথা বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমারের। একই হাল কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসোয়ানেরও। এই আবহে বিপাকে আরও এক এনডিএ শরিক আরএলডি।
রবিবার জয়ন্ত চৌধুরীর দল থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রভাবশালী সংখ্যালঘু নেতা শাহজেব রিজভি। তাঁর অভিযোগ, মোদি সরকারের ওয়াকফ বিলে সমর্থন দিয়ে সংখ্যালঘু মানুষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন জয়ন্ত। দলের আরও বেশ কয়েকজন নেতাও রিজভির মতো দল ছাড়তে পারেন বলে খবর। এরমধ্যেই দলত্যাগী নেতার সঙ্গে দূরত্ব বাড়াতে তৎপর আরএলডি সুপ্রিমো। শনিবার দলের শীর্ষ নেতা ত্রিলোক ত্যাগীকে এই নিয়ে প্রশ্ন করতেই তাঁর সটান জবাব, ‘কে রিজভি? এমন কোনও ব্যক্তিকে আমরা চিনি না।’ পাল্টা দলীয় সুপ্রিমো থেকে শুরু করে ত্যাগীর মতো নেতাদের সঙ্গে ছবি শেয়ারের মাধ্যমে পাল্টা চাপ তৈরির কৌশল নিয়েছেন বছর দুয়েক আগে দলে যোগ দেওয়া রিজভিও।
ওয়াকফ ইস্যুতে হাল ছাড়তে নারাজ বিরোধী শিবির। ইতিমধ্যেই উল্লিখিত বিলের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করেছে কংগ্রেস, মিম, আপ। এবার সেই তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে লালুপ্রসাদ যাদবের রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-ও। দলের সাংসদ মনোজ ঝা ও নেতা ফৈয়াজ আহমেদ ওয়াকফ সংশোধনী বিলের (বর্তমানে আইন) বিরুদ্ধে সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিতে চলেছেন। নেতৃত্বের মতে, নয়া আইনে ওয়াকফ সম্পত্তির ব্যবস্থাপনায় সমস্যা দেখা দিতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন