কলকাতা ও সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: ওয়াকফ আইনকে সামনে রেখে মুর্শিদাবাদের কায়দায় প্রতিবাদ আন্দোলনের নামে দক্ষিণ দিনাজপুরে বড়সড় হিংসার ছক কষেছিল দুষ্কৃতীরা। বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে তা ভেস্তে দিল পুলিস। রবিবার অনুমতি ছাড়াই মিছিল করে এসে অতর্কিতে পুলিসের উপর হামলার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। দুষ্কৃতীদের লক্ষ্য ছিল, জেলাজুড়ে অশান্তি ছড়িয়ে দেওয়া। এরজন্য গোপনে প্রস্তুতিও সেরে রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি গ্রামে হামলা চালানোর উদ্দেশ্য ছিল। অশান্তি আঁচ করেই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেয় হরিরামপুর থানা। দলে কারা কারা ছিল, কোথায় গোলমাল পাকানোর উদ্দেশ্য ছিল— ধৃতদের জেরা করে সেসব জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।
মুর্শিদাবাদ
কাণ্ডের পর এখন বাড়তি সতর্ক পুলিস। রাজ্যের আর কোথাও যাতে হিংসার আগুন
জ্বালানোর চেষ্টা সফল না হয়, সেজন্য খবরাখবর সংগ্রহ করার কাজ চলছে। এলাকায়
দুষ্কৃতী বলে পরিচিত এবং হিংসা ছড়ানোর পুরনো মামলা রয়েছে যাদের, তাদের
কার্যকলাপ ও গতিবিধি নিয়ে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এমনকী তাদের
মোবাইল ফোনও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে। সেই সূত্র ধরেই দক্ষিণ দিনাজপুরের
পুলিস কর্তাদের কাছে খবর আসে, জেলায় একদল দুষ্কৃতী হাঙ্গামা পাকানোর ছক
কষেছে। তারা সামনে রাখতে চাইছে ওয়াকফ আইনকে। দুষ্কৃতীদের লক্ষ্য ছিল,
পুলিসের অনুমতি ছাড়াই বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ সমাবেশ করা। এছাড়া অতর্কিতে
পুলিসকে আক্রমণ ও সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করা হবে। মুর্শিদাবাদ স্টাইলেই তা
করার ছক কষা হয়। এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পুলিসের হাতে চলে আসে। পুলিস
জানতে পারে, হিংসা ছড়ানোর জন্য দুষ্কৃতীদের সঙ্গে ডিল হয়ে গিয়েছে। বেশ
কয়েকটি জায়গাকে টার্গেট করেছে তারা।
পুলিস সূত্রে জানা যাচ্ছে,
প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উড়িয়ে রবিবার হরিরামপুর ব্লকে অনুমতি ছাড়াই বিক্ষোভ
মিছিলের কর্মসূচি নেওয়া হয়। সেই জন্য বিরাট পুলিস বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
আনা হয় জলকামান। পুলিসের অনুমতি ছাড়া বিক্ষোভকারীর জমায়েত হলে তাদের সরে
যেতে বলা হয়। কিন্তু তাতে কাজ না হওয়ায় আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে
পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর বাকিদের এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।
ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, তারা পুলিসের উপর আক্রমণের পাশাপাশি
এলাকার দোকানপাট ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের পরিকল্পনা নিয়েছিল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন