চেন্নাই: পাঁচ ম্যাচে চারটিতে হার। পয়েন্ট তালিকায় নামতে নামতে নবম স্থানে চেন্নাই সুপার কিংস। কোনও কিছুই ঠিকঠাক হচ্ছে না হলুদ ব্রিগেডের। ফলে সমর্থকরা হতাশ। ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা চাইছিলেন দুঃসময়ে ধোনিই আবার দলের হাল ধরুন। সেই সুযোগ এসেও গেল ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের চোটের জেরে। সিএসকে ক্যাপ্টেনের কনুইয়ে হাল্কা চিড় ধরেছে। পঁচিশের আইপিএলে তিনি আর খেলতে পারবেন না। টুর্নামেন্টের মাঝপথে চোট পেয়ে অধিনায়ক ছিটকে গেলে গোটা দলের মনোবল ভেঙে যাওয়ার কথা। কিন্তু এক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনা কম। কারণ প্রিয় ‘থালা’ যে এবার সামনে থেকে পথ দেখাবেন!
এক্স হ্যান্ডলে চেন্নাই সুপার কিংস কর্তৃপক্ষ ঋতুরাজের ছিটকে যাওয়া এবং ধোনির ক্যাপ্টেন্সিতে ফেরার খবর জানানোর পরেই সিএসকে সমর্থকদের উচ্ছ্বাস ধরা পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। অনেকেই শুক্রবার চিপকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে মাঠে গিয়ে খেলা দেখার জন্য টিকিটের সন্ধানও শুরু করে দিয়েছেন। আসলে ধোনির নেতৃত্বে পাঁচবার আইপিএল জিতেছে সুপার কিংস। কিন্তু ভবিষ্যতের কথা ভেবে ঋতুরাজের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল অধিনায়কের ব্যাটন। আখেরে তাতে লাভ হয়নি। গতবার লিগ পর্ব থেকেই বিদায় নিয়েছিল সিএসকে। এবারও পরিস্থিতি ভালো নয়। টানা চারটি ম্যাচ হেরে ক্রিকেটারদের মনোবল একেবারে তলানিতে। প্লে-অফের লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে দরকার জয়। সেই লক্ষ্যেই হলুদ জার্সিধারীরা শুক্রবার ঘরের মাঠে কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে নামবে। সিএসকে সমর্থকরা আশাবাদী, ধোনির নেতৃত্বে চাকা ঘুরবে।
আসলে কেকেআরও স্বস্তিতে নেই। গত ম্যাচে ইডেনে লখনউ সুপার জায়ান্টসের বিরুদ্ধে ২৩৮ রান তাড়া করতে নেমে ২৩৪ তুলেছিলেন রাহানেরা। মাত্র ৪ রানে হারতে হয়েছিল গতবারের চ্যাম্পিয়নদের। তবে ছেলেদের খেলায় খুশি দলের মালিক শাহরুখ খান। চেন্নাই ম্যাচে ছেলেদের মাথা উচুঁ রেখে মাঠে নামার বার্তা দিয়েছেন বাদশা। তা রিঙ্কুদের মনোবল কতটা বাড়িয়েছে, সেটাই দেখার।
আসলে ঘরের মাঠে পছন্দের পিচ না পাওয়া নিয়ে কম-বেশি সব দলেরই অসন্তোষ স্পষ্ট। ইডেনে স্পিন সহায়ক উইকেট চেয়েছিলেন রাহানেরা। তা না পাওয়ায় তোপ দেগেছেন কিউরেটরকে। চেন্নাই সুপার কিংসকেও এবার ঘরের মাঠে ‘অচেনা’ পিচে খেলতে হচ্ছে। ফলে পরিকল্পনার সঠিক রূপায়ন হচ্ছে না। ঘরের মাঠে তিনটির মধ্যে দু’টিতে হেরেছেন ধোনিরা। কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, উইকেট নিয়ে খুশি নন সিএসকে শিবিরও। তাই কলকাতা-চেন্নাই ম্যাচের পিচ নিয়ে আগ্রহ রয়েছে ক্রিকেট মহলে। দুই দলের শক্তি হল স্পিন ব্রিগেড। রবীন্দ্র জাদেজা, রবিচন্দ্রন অশ্বিনের সঙ্গে নুর আহমেদকে খেলাচ্ছে সিএসকে। অন্যদিকে, বল টার্ন করার সম্ভাবনা থাকলে বরুণ চক্রবর্তী, সুনীল নারিনের সঙ্গে মঈন আলিকে জুড়ে দিতে পারে নাইটরা। শোনা যাচ্ছে, দু’টি উইকেট তৈরি রাখা হয়েছে শুক্রবারের ম্যাচের জন্য। একটা লাল মাটির, যেটা কিছুটা শক্ত। বাউন্স রয়েছে। বল পড়ে ভালো ব্যাটে আসবে। আর একটা কালো মাটির, যা কিছুটা মন্থর। বল ঘুরতেও পারে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন