নয়াদিল্লি: রেলমন্ত্রকের পক্ষ থেকে একাধিকবার ঘোষণা করা হয়েছে যে, দূরপাল্লার যাবতীয় মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনের গতি বাড়িয়ে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার করা হবে। বিভিন্ন সময় রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবও এ ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে দূরপাল্লার মেল, এক্সপ্রেস ট্রেনের ১৬০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় চলার আশ্বাস আদতে কি ‘জুমলা’? এই প্রশ্নে ইতিমধ্যেই তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে।
শুক্রবার সংসদে পেশ করা রেলমন্ত্রকের পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, সম্পূর্ণ রেল নেটওয়ার্কের উন্নীতকরণ তো অনেক দূরের ব্যাপার। এখনও পর্যন্ত দেশে এক কিলোমিটার রেলওয়ে ট্র্যাককেও ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানোর উপযোগী করতে পারেনি রেল বোর্ড। পরিবর্তে তৈরি হয়েছে সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত গতিতে ট্রেন চলার উপযোগী রেল লাইন। অর্থাৎ, ঘোষণা হলেও এমনকী দেশের সেমি-হাইস্পিড ট্রেন বন্দে ভারত এক্সপ্রেসও তার সর্বোচ্চ গতিতে চলতে পারছে না। কারণ বন্দে ভারত ট্রেন ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে। অথচ তার উপযোগী রেল লাইনই এখনও পর্যন্ত এই দেশে নেই।
রাজ্যসভায় বন্দে ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের ঘণ্টায় গড় গতি কমে যাওয়ার বিষয়ে লিখিত প্রশ্ন করেন কংগ্রেস সাংসদ রঞ্জিত রঞ্জন। তারই লিখিত জবাবে উল্লিখিত পরিসংখ্যান পেশ করেন রেলমন্ত্রী। তিনি লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে, বন্দে ভারত ট্রেনগুলি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৬০ কিলোমিটার গতিতে চলার মতো উপযোগী করেই তৈরি হচ্ছে। তবে সবসময়ই যে ট্রেনের গড় গতি কম হওয়ার কারণ রোলিং স্টকের প্রকৃতি, তা মোটেও নয়। সংশ্লিষ্ট রুটে রেল লাইনের পরিকাঠামো, ভৌগোলিক অবস্থান সবটাই নির্ভর করে। রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, কয়েক বছর ধরেই রেল লাইনগুলিকে ঘণ্টায় ১১০ কিমি থেকে ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চালানোর উপযুক্ত করা হচ্ছে। রেল লাইনের মানোন্নয়ন একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এই তথ্য থেকেই স্পষ্ট, এখনও পর্যন্ত দেশে যা কাজ হয়েছে, তার পুরোটাই ঘণ্টায় ১৩০ কিমি পর্যন্ত গতিতে ট্রেন চালানোর উপযোগী রেল লাইন তৈরি সংক্রান্ত।
সংশ্লিষ্ট পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে, ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার এবং তার বেশি গতিতে ট্রেন চালানোর মতো উপযোগী রেল লাইন ২০১৪ সাল পর্যন্ত তৈরি হয়েছে ৩১ হাজার কিলোমিটার। তারপর থেকে ২০২৫ সালে এখনও পর্যন্ত এর পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৮০ হাজার কিলোমিটার। অন্যদিকে, ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৩০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলাচলের উপযোগী রেল লাইন ছিল পাঁচ হাজার কিলোমিটার। পরবর্তী ১১ বছরে এর পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে মাত্র ২৩ হাজার কিলোমিটার।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন