দীঘা: জগন্নাথ প্রভুর প্রাণপ্রতিষ্ঠা ও মহাযজ্ঞে যোগ দিতে আজ, সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার সকাল থেকেই শুরু মহাযজ্ঞ। আহুতি হবে দু’ কুইন্টাল ঘি। সেখানে অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মতো প্রশাসনিক প্রস্তুতি সারা। এদিকে, ২৯ ও ৩০ এপ্রিল জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের সাক্ষী থাকতে রবিবার থেকেই দীঘায় ভিড় জমতে শুরু করেছে। মন্দির চত্বরে তৈরি হয়েছে মঞ্চ। সেখানে বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পী তথা প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের ঘরণী ডোনা গঙ্গোপাধ্যায়, সংগীতশিল্পী নচিকেতা, শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, ইমন চক্রবর্তী ও জিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো সেলিব্রিটিরা থাকবেন। সব মিলিয়ে প্রায় এক হাজার শিল্পীকে নিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। সমাজের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিও অংশগ্রহণ করবেন। মঞ্চের সামনে মোট আট হাজার আসন পাতা হয়েছে।
জগন্নাথ মন্দিরের গেটে নিরাপত্তা কয়েকগুণ বাড়ানো
হয়েছে। বাইরের লোকজনের প্রবেশ পুরোপুরি নিষিদ্ধ। এদিন সকাল থেকেই দীঘায়
পর্যটকরা আসতে শুরু করেছেন। ভিআইপিরাও আসতে শুরু করে দিয়েছেন। এদিন বিকলের
পর বিদ্যুৎমন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, দমকল মন্ত্রী সুজিত বসু সহ রাজ্যের
বিভিন্ন দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা চলে এসেছেন বলে খবর। মেগা ইভেন্টে
বিদ্যুৎ থেকে অগ্নিনির্বাপণ, পানীয় জল প্রভৃতি নিয়ে যাতে কোনও সমস্যা না
হয়, তার জন্য উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিন সকাল থেকেই অন্য জেলা
থেকে বাহিনী পৌঁছতে শুরু করেছে।
জগন্নাথদেবের প্রাণ প্রতিষ্ঠার আগে
পুরীর নিয়ম মেনেই নিষ্ঠা সহকারে মন্দিরে নানা আচারবিধি পালন করা হচ্ছে।
সকাল ও সন্ধ্যায় মন্দিরের সামনে পুজোপাঠ এবং হোমযজ্ঞ শুরু হয়েছে। পুরীর
মন্দির থেকে ৫৭ জন জগন্নাথদেবের সেবক এবং ইস্কন থেকে ১৭ জন সাধু ওই
আচারবিধিতে শামিল হচ্ছেন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই মহাযজ্ঞ শুরু হবে। জানা
গিয়েছে, দু’ কুইন্টাল ঘি এবং ১০০ কুইন্টাল আম ও বেল কাঠ নিয়ে মহাযজ্ঞ হবে।
মন্দির
সংলগ্ন ১১৬বি জাতীয় সড়কে চৈতন্যদ্বারের কাজ চলছিল। এতদিন ওই এলাকায় সড়ক
বন্ধ ছিল। চৈতন্যদ্বারের কাজ শেষ হওয়ার পর এদিন সকাল থেকেই ওই সড়ক পরিষ্কার
করে দেওয়া হয়। আগত পর্যটকরা দলবেঁধে জগন্নাথ মন্দিরের বাইরে ভিড় করেন।
হোটেল, লজ, গেস্ট হাউসে সব জায়গা হাউসফুল। পুলিসের পক্ষ থেকে বিভিন্ন
স্কুল, ডরমেটরি প্রভৃতি নেওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে ডিউটিতে আসা পুলিস কর্মী
এবং সিভিক ভলান্টিয়াররা রাত্রিবাস করবেন। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী এবং
পুলিস সুপার সৌম্যদীপ ভট্টাচার্য মেগা ইভেন্টের তদারকি করছেন। এদিন জেলা
প্রশাসন ও পুলিসকে নিয়ে একপ্রস্ত বৈঠকও করেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন