তমলুক: জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের আগেই দীঘাগামী দু’টি ইএমইউ স্পেশাল চালানোর একদিন পরই বাতিল করল রেল। রেলের এই হঠকারী সিদ্ধান্তে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ জগন্নাথ ভক্তরা। গত ২২ এপ্রিল দক্ষিণ-পূর্ব রেল পাঁশকুড়া-দীঘা এবং হাওড়া-দীঘা এক জোড়া লোকাল ট্রেন চালানোর বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল। ২৬ এপ্রিল থেকে ৪মে পর্যন্ত এই পরিষেবা চালু থাকবে বলে রেল জানিয়েছিল। ২৬ তারিখ শনিবার দীঘাগামী ওই দু’টি ইএমইউ স্পেশাল চলেছে। রবিবার ভোরে পাঁশকুড়া-দীঘা স্পেশালটিও চলেছে। সকাল ১০টা নাগাদ আচমকা ওই জোড়া ইএমইউ স্পেশাল বাতিল করা হল বলে রেলের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়। এদিন হাওড়া স্টেশন থেকে বেলা ১টা ১০মিনিটে দীঘা যাওয়ার ইএমইউ স্পেশাল ট্রেনটি আর চালানো হয়নি। রেলের এই সিদ্ধান্তে জগন্নাথ ভক্তরা প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ ও হতাশ। তাঁদের অনেকেই দীঘা যাওয়ার পরিকল্পনা সেরে ফেলেছিলেন। কিন্তু, রেলের এই সিদ্ধান্তে সেই পরিকল্পনা বিরাট ধাক্কা খেল। এমনিতেই দীঘা যাওয়ার ট্রেনের সংখ্যা কম। সারাদিনে চার জোড়া লোকাল চলে। তারমধ্যে তিনটি দুপুরের পর থেকে দীঘার উদ্দেশে ছাড়ে। এছাড়াও বেশিরভাগ দিন ট্রেন নির্ধারিত সময়ে চলে না। ওই লাইনে চলাচল করা যাত্রীদের এনিয়ে অভিজ্ঞতা তিক্ত। দীঘা যাওয়ার জন্য দিনের প্রথম লোকাল সকাল ৮টায় মেচেদা থেকে ছাড়ে। রবিবার ওই লোকাল দেড় ঘণ্টা দেরিতে চলে। দিনের দ্বিতীয় লোকাল দুপুর ২টা ৫মিনিটে পাঁশকুড়া থেকে ছাড়ে। তারপর সন্ধ্যা ৬টা ১৫মিনিট এবং শেষ লোকাল রাত ৭টা ৪০মিনিটে ছাড়ে। সকালে পাঁশকুড়া থেকে দীঘাগামী ট্রেনের দাবি দীর্ঘদিনের।
গরমের সময় দীঘায় পর্যটক সংখ্যা
বাড়ে। সেজন্য প্রতিবছর স্পেশাল ট্রেন চালানো হয়। গত ৯ এপ্রিল থেকে দু’মাসের
জন্য পাঁশকুড়া-দীঘা একজোড়া লোকাল চালু হয়েছে। ওই স্পেশাল সকাল ১১টায়
পাঁশকুড়া স্টেশন থেকে ছাড়ছে। কিন্তু, জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধন উপলক্ষ্যে
প্রচুর ভক্ত দীঘা যাওয়ার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছিলেন। বিশেষ করে রেল জোড়া
ইএমইউ স্পেশাল চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় তাঁরা খুশি হয়েছিলেন। মাত্র একদিন
চালানোর পরই জগন্নাথ ভক্তদের হতাশ করে তা বাতিল করে দিল রেল কর্তৃপক্ষ।
রবিবার
রেলের পক্ষ থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে, রেকের অভাব এবং ওই লাইনে
সীমাবদ্ধতার কারণে দু’টি ইএমইউ স্পেশালই বাতিল করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ওই
দু’টি স্পেশাল চালানোর বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার আগে কী রেল ওই সমস্যা খতিয়ে
দেখেনি? জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের মতো একটা মেগা ইভেন্টের আগে স্পেশাল
ট্রেন চালানোর কথা বলে পরে তা বাতিল করায় আসলে রেল কর্তাদের পেশাদারিত্ব
নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের খোষ্টিকরী প্রাইমারি স্কুলের
প্রধান শিক্ষক সুমিত সামন্ত বলেন, দু’টি ইএমইউ স্পেশাল চালানোর একদিন বাদে
যেভাবে বন্ধ করা হল তা হতাশাজনক। আমার প্রশ্ন, এরমধ্যে রাজনীতি নেইতো?
দীঘায় প্রচুর মানুষের সমাগম আটকাতে এটা পরিকল্পিত নয়তো? গত বছর সেপ্টেম্বর
মাসে বিজেপির নবান্ন অভিযানের সময় দীঘা থেকেই দু’টি লোকাল ট্রেন ভাড়া
নিয়েছিল গেরুয়া পার্টি। তাহলে ওই লাইনে একদিনে দু’টি অতিরিক্ত লোকাল চালানো
হলে পর্যটক এবং জগন্নাথ ভক্তদের জন্য অতিরিক্ত দু’টি লোকাল চালাতে সমস্যা
কোথায়? দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ওমপ্রকাশ চরণ বলেন, কিছু টেকনিক্যাল কারণে ওই দুই ইএমইউ স্পেশাল চালানো বন্ধ করা হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন