নয়াদিল্লি: পেট্রল-ডিজেলের দাম কীভাবে স্থির হয়? আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দর কমলে বা বাড়লে দেশে সেই অনুপাতে ধার্য হয় পেট্রপণ্যের মূল্য। কমবেশি এটাই আন্তর্জাতিক প্রোটোকল। ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে পেট্রপণ্য পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়ন্ত্রণহীন (ডিরেগুলেটড) হয়ে গেলেও এই রীতি অনুসরণ করতে দেখা যায় না মোদি সরকারকে। আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলে তৎক্ষণাৎ দেশে দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়। অথচ উল্টোটা হলে তার সুফল মেলে না। অর্থাৎ, আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম তলানিতে নামলেও দেশে পেট্রল-ডিজেলের খুচরো মূল্য কমানো হয় না। রাশিয়া থেকে সস্তায় তেল পেলেও দাম দাঁড়িয়ে থাকে একই জায়গায়। এতে সবথেকে বেশি মুনাফা কার? অঙ্ক বলছে, তেল উৎপাদন সংস্থাগুলির অর্থাৎ মোদি সরকারের। গত ১১ বছরে সেই মুনাফা আকাশ ছুঁইছুঁই— প্রায় ৪০ লক্ষ কোটি টাকা! ভারতের প্রায় এক বছরের পূর্ণাঙ্গ বাজেট বরাদ্দের সমান।
এই হিসেব সামনে এনেই শনিবার মোদি সরকারকে ‘ট্যাক্স-লুটেরা’ আখ্যা দিয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস। দলের মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম এখন শুধুমাত্র কম নয়, কার্যত তলানিতে। ভারতের সরকারি তেল উৎপাদন সংস্থাগুলি পেট্রলে লিটার প্রতি অন্তত ১৫ টাকা করে অতিরিক্ত লাভ করছে। ডিজেলে মুনাফা হচ্ছে অতিরিক্ত ৬ টাকা।’ কংগ্রেসের দাবি, অন্তত ৪-৫ টাকা করে লিটার প্রতি পেট্রপণ্যের দাম এখনই কমাতে পারে তেল সংস্থাগুলি। কারণ, পেট্রল-ডিজেল নিয়ন্ত্রণহীন হলেও আদতে সরকারি সংস্থার রিমোট কন্ট্রোল ভারত সরকারই। সুতরাং মোদি সরকারের সবুজ সঙ্কেত না দেওয়ায় দাম কমানো হচ্ছে না।
রাহুল গান্ধীর দল রীতিমতো পরিসংখ্যান পেশ করে জানিয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে আজ পর্যন্ত এভাবেই আম জনতাকে পেট্রপণ্যের দামে উপযুক্ত সুরাহা দেয়নি মোদি সরকার। বরং পেট্রপণ্যের উপর বলবৎ হওয়া শুল্ক আদায় বাবদ মুনাফা করেছে ৩৯ লক্ষ ৫৪ হাজার কোটি টাকা। একইভাবে তেল সংস্থাগুলিও লাভের পাহাড়ে। কারণ, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সস্তায় অশোধিত তেল কিনেছে। অথচ অতিরিক্ত বেশি দামে আম জনতাকে বিক্রি করে চলেছে। তথ্য বলছে, পেট্রল-ডিজেলের উপর রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারের শুল্ক আরোপ করে। কেন্দ্রের আয়ের অন্যতম উৎস হল এই এক্সাইজ ডিউটি। ২০১৪ সালের মে মাসে পেট্রলের উপর তা ছিল লিটার প্রতি ৯ টাকা ২০ পয়সা। ডিজেলে ৩ টাকা ৪৬ পয়সা। ১১ বছর পর পেট্রলের এক্সাইজ ডিউটি হয়েছে লিটারে প্রায় ২০ টাকা। ডিজেলে ১৫ টাকা ৮০ পয়সা। এখানে শেষ নয়, এর সঙ্গে যুক্ত হবে কৃষি ও পরিকাঠামো সেস। সেই হিসেবে পেট্রল থেকে শুল্ক বাবদ আদায় হয় লিটারে প্রায় ২২ টাকা। আর ডিজেলের ক্ষেত্রে ১৭ টাকা ৮০ পয়সা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন