উলুবেড়িয়া: কারও বয়স সত্তর, কেউ আবার নব্বইয়ের দোরগোড়ায়। এই বয়সেও গ্রীষ্মের প্রখর দাবদাহের মধ্যে রাস্তার ধারে বসে পথচারীদের জল-বাতাসা তুলে দিচ্ছেন তাঁরা। সঙ্গে ভিজানো ছোলা। প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এই বৃদ্ধারা নিয়ম করে এভাবেই সাহারা হয়ে উঠেছেন পথচারীদের। গরমের চোটে ফুটছে গোটা দক্ষিণবঙ্গ। চাঁদিফাটা রোদে অতিষ্ঠ পথচলতি মানুষ। এই পথচারীদের কিছুটা স্বস্তি দিতে গত কয়েক বছর ধরেই গ্রীষ্মকালে পথে নামেন জয়পুরের অমরাগড়ি বৃদ্ধাশ্রমের আবাসিকরা।
আমতা ২ নম্বর ব্লকে রয়েছে এই বৃদ্ধাশ্রম। এটি পরিচালনা করে
অমরাগড়ি যুব সঙ্ঘ। রাজ্যের বিভিন্ন জেলার ২৫ জন বৃদ্ধা এখানে থাকেন। এ যেন
এক ‘একান্নবর্তী পরিবার’। প্রতি বছরই গরমকালে নিয়ম করে তাঁরা জয়পুর-ঝিকিরা
সড়কে নেমে আসেন জল, ছোলা, বাতাসা নিয়ে। অমরাগড়িতে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টে
পর্যন্ত পালা করে ‘ডিউটি’ দেন তাঁরা। ক্লান্ত পথচারীদের ঠান্ডা জল পান
করিয়ে শান্তি পান এই মায়েরা। বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ অমরাগড়িতে চোখে পড়ল
তিন বৃদ্ধাকে। তাঁরা একটি গাছের ছায়ায় বসে রয়েছেন বেঞ্চে। সামনের বেঞ্চে
একটি থালায় রাখা রয়েছে বাতাসা। তার সামনে একটি বোর্ডে লেখা— ‘কারে দাও ডাক
হে ভৈরব, হে রুদ্র বৈশাখ’— জলছত্র। কাছে গিয়ে দাঁড়াতেই এক বৃদ্ধা বলে
উঠলেন, বাবা, যাওয়ার আগে একটু বাতাসা আর এক গ্লাস ঠান্ডা জল খেয়ে যেও। এত
গরমে মানুষ তো দূরের কথা, রাস্তায় যখন কাক-পক্ষীরও দেখা নেই, তখন আপনারা
বসে কী করছেন? বৃদ্ধাদের সহাস্য উত্তর, ছেলেরা রাস্তায় বেরিয়ে কষ্ট পাবে,
আর মায়েরা ঘরে বসে দেখবে, সেটা কী হতে পারে! ছেলেদের কষ্ট লাঘব করতে আমরা
এই কাজ করছি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন