নয়াদিল্লি: একদিকে রেললাইনে নাশকতার চেষ্টা। অন্যদিকে রেল কর্মীদের হানি-ট্র্যাপ করে স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নেওয়া। এবার এই দুই চ্যালেঞ্জ সামাল দেওয়াই অন্যতম প্রধান পরীক্ষা হতে চলেছে রেলের। চেন্নাইয়ে রেললাইনে নাশকতার চেষ্টাই হয়েছিল। প্রাথমিক তদন্তের পর এই ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছে রেলমন্ত্রক। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার তদন্তভার তুলে দেওয়া হয়েছে এনআইএর হাতে। দায়িত্বপ্রাপ্ত রেল কর্মীদের নজর যদি এড়িয়ে যেত, তাহলে চেন্নাইয়ে বহু প্রাণহানি হতো।
নাশকতার
ঘটনায় যেমন সমস্ত জোন এবং ডিভিশনকে ইতিমধ্যেই ‘হাই অ্যালার্ট’ পাঠিয়েছে
রেল বোর্ড। তেমনই নির্দেশিকা পাঠিয়ে কর্মী-আধিকারিকদের উদ্দেশে রেল বলেছে,
কোনও ফাঁদে পা দেবেন না। হোয়াটস গ্রুপ কিংবা ইমেলে কোনও লিঙ্ক এলে তাতে
‘ক্লিক’ করবেন না। নিজের এবং দেশের মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে। এই
ব্যাপারে শনিবার উত্তর-পশ্চিম রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ক্যাপ্টেন শশী
কিরণ বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেখানে রেল কর্মীদের
ডিজিটাল অ্যারেস্ট করে অথবা হানি-ট্র্যাপের মাধ্যমে স্পর্শকাতর জরুরি তথ্য
হাতানোর চেষ্টা হয়েছে। দুষ্কৃতীদের পাতা ফাঁদে যেন কেউ পা না দেন। রেলের
সঙ্গে কোটি কোটি সাধারণ মানুষের জীবন প্রতিদিন জড়িয়ে থাকে।’ চেন্নাইয়ের
ঘটনার জেরে রেল নির্দেশ দিয়েছে যে, সমস্ত জোন এবং ডিভিশনে ‘নাইট পেট্রলিং’
দ্বিগুণ করতে হবে। প্রয়োজনে বাড়তি কর্মী কাজে লাগাতে হবে। শুক্রবার সকালে
দক্ষিণ রেলের অন্যতম ব্যস্ত স্টেশন তিরুভালুগাড়ুর কাছে রেললাইনের একাধিক
নাট-বল্টু খোলা অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়।
এর ফলে ‘ট্র্যাক চেঞ্জিং’ প্রক্রিয়াই সম্পূর্ণ উল্টেপাল্টে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। ‘ফাস্ট’ আপ লাইন, অর্থাৎ যে ট্র্যাকে সাধারণত দ্রুতগামী মেল, এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে, তার দু’টো নাট-বল্টু খুলে রাখা হয়েছিল। পাশের ‘স্লো’ আপ লাইন, অর্থাৎ যে ট্র্যাকে সাধারণত প্যাসেঞ্জার এবং লোকাল ট্রেন চলাচল করে, তার একটি নাট-বল্টু খোলা ছিল। এর অর্থ, সুপারফাস্ট ট্রেনের ‘স্লো’ রেল লাইনে এবং প্যাসেঞ্জার ও লোকাল ট্রেনের ‘ফাস্ট’ ট্র্যাকে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা ছিল। এর ফলে অবধারিত সংঘর্ষ হতো দু’টো ট্রেনের।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন