মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাজুড়ে বিদ্যুৎ চুরির প্রবণতা বেড়েই চলেছে। বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার এক আধিকারিক বলেন, কোনও ভাবেই এই প্রবণতা বন্ধ করা যাচ্ছে না। নতুন নতুন এলাকায় বিদ্যুৎ চুরির সন্ধান মিলছে। গত এক বছরে জেলার মেদিনীপুর, খড়্গপুর, ঘাটাল ও বেলদা বিভাগে অভিযান চালিয়ে প্রায় এক হাজার এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। এদের কাছে ১৬ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা ধার্য্য করা হয়েছে। আদায় হয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। গরমকালে চুরির প্রবণতা বাড়ে। বিদ্যুৎ চুরি করেই এসি, জলের পাম্প চালানো হয়।
জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি
এফআইআর হয়েছে খড়্গপুর বিভাগে। এক আধিকারিক বলেন, খড়্গপুর শহর সহ ১ ও ২
ব্লক, ডেবরা, পিংলা, সবং এলাকায় প্রায় ৬৫০টি এফআইআর হয়েছে। জরিমানা আদায়
হয়েছে প্রায় আট কোটি টাকা। এফআইআর এবং জরিমানা করার পর একটা বড় অংশ আর চুরি
করে না। কিন্তু প্রায় ২৫ শতাংশ গ্রাহক পুনরায় চুরি করে। তাই অভিযান চালিয়ে
যেতে হয়। পাশাপাশি বাসিন্দাদের সচেতনও করা হয়।
ওই আধিকারিক বলেন,
যাঁদের বিরুদ্ধে এফআইআর ও জরিমানা করা হচ্ছে দেখা যাচ্ছে, তাঁদের
অধিকাংশেরই মিটার আছে। যাতে বিদ্যুৎ কম পোড়ে তারজন্য চুরি করা হচ্ছে। এর
থেকে বাদ যাচ্ছে না খড়্গপুর শহরাঞ্চলও। গ্রামঞ্চলে তিন রকম পদ্ধতিতে
বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে। সরাসরি বিদ্যুৎবাহী তার থেকে হুক করে লাইন নেওয়া
হচ্ছে। কোথাও সংযোগ বোর্ড থেকে বিদ্যুৎ চুরি হচ্ছে। আবার বাড়ির মিটারে যে
তারের সাহায্যে সংযোগ দেওয়া হয়েছে, সেই তার কেটে পৃথক তার জুড়ে সংযোগ নেওয়া
হচ্ছে। শহরাঞ্চলে অবশ্য চুরির পদ্ধতিটা একেবারে আলাদা। এখানে বাইরে থেকে
কিছুই বোঝা যাবে না। এক আধিকারিক বলেন, একেবারে মিটার থেকে বাইপাস করে লাইন
টেনে নেওয়া হচ্ছে। মিটারকে ট্যাম্পারিং করা হচ্ছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন