মুম্বই: ‘মারাঠা অস্মিতা’র পুরনো টোটকাই কি ফের জোড়া লাগাবে থ্যাকারে পরিবারকে? দু’দশক পর ফের কাছাকাছি আসবেন উদ্ধব ও রাজ থ্যাকারে? দুই তুতোভাইয়ের দিক থেকেই এব্যাপারে ইতিবাচক ইঙ্গিত এসেছে। মহারাষ্ট্রে বিজেপি নেতৃত্বাধীন মহাযুতি সরকার তৃতীয় ভাষা হিসেবে স্কুলে হিন্দি বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর প্রতিবাদে শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা উদ্ধবের মতোই সরব মহারাষ্ট্র নবনির্মাণ সেনার (এমএনএস) প্রধান রাজও। দুই ভাইয়ের মুখেই ফের ‘সর্বাগ্রে মহারাষ্ট্র ও মারাঠা’ স্লোগান। একধাপ এগিয়ে রাজ বলছেন, বড়সড় বিপদের সময় ছোটখাট বিবাদ মাথায় রাখা ঠিক নয়। একইসুর শোনা গিয়েছে উদ্ধবের গলাতেও।
একটা সময়
রাজকেই বালাসাহেব থ্যাকারের রাজনৈতিক উত্তরসূরি মনে করা হতো। যদিও
বালাসাহেব-পুত্র উদ্ধবের সঙ্গে সংঘাতের জেরে ২০০৫ সালে শিবসেনা ছাড়েন রাজ।
তৈরি করেন এমএনএস। সেই থেকেই দুই ভাইয়ের মধ্যে অহি-নকুল সম্পর্ক। যদিও রাজ
সেভাবে তাঁর দলের ভিত্তি তৈরি করতে পারেননি। আর উদ্ধবের শিবসেনার প্রতীক ও
নামও চলে গিয়েছে একনাথ সিন্ধের হাতে। তাই ঘর তথা বালাসাহেবের রাজনৈতিক
উত্তরাধিকার বাঁচাতে তাঁর পুত্র ও ভাইপোর একসঙ্গে আসার জল্পনা বেশ কিছুদিন
ধরেই চলছে। এরইমধ্যে হিন্দি চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগকে সামনে রেখে দুই ভাইয়ের
সম্পর্কে বরফ গলার ইঙ্গিত মিলেছে। এক সাক্ষাৎকারে রাজ বলেছেন, মারাঠি ভাষা ও
মহারাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষায় ছোটখাট মতবিরোধ সরিয়ে রাখতে কোনও আপত্তি
নেই তাঁর। উদ্ধব রাজি থাকলে একসঙ্গে কাজ করতেও কোনও সমস্যা নেই। রাজের
কথায়, ‘যখন বড় ইস্যু তৈরি হয়, তখন নিজেদের মধ্যে বিবাদ ও ঝগড়াঝাটি গৌণ হয়ে
পড়ে।’
এব্যাপারে উদ্ধবের বক্তব্য, মারাঠি মানুষের স্বার্থরক্ষায়
‘ছোটখাট ঝগড়া’ ভুলে একত্রে কাজ করতে তাঁরও আপত্তি নেই। তবে শর্ত রয়েছে।
মহারাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী কাজের সঙ্গে যুক্তদের বাড়িতে ডেকে আপ্যায়ন করা
চলবে না। এপ্রসঙ্গে গত লোকসভা ভোটে রাজের দলের এনডিএ শিবিরের হয়ে লড়াইয়ের
কথা তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন