
বোলপুর: ‘জীর্ণ পুরাতন যাক ভেসে যাক...।’ রবীন্দ্রনাথের সময় থেকে পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে স্বাগত জানানোর চল রয়েছে শান্তিনিকেতনে। এবারও যথাযথ মর্যাদায় সেই আয়োজন করা হয়েছে। বর্ষশেষ ও বর্ষবরণ নামে পরিচিত সেই উৎসব আজ, সোমবার থেকে শুরু হবে। তার প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ দিনকয়েক আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তি আকারে অনুষ্ঠান সূচি প্রকাশ করেছে। প্রতিবছরের মতো এবারও শান্তিনিকেতন কর্মী মণ্ডলী এই অনুষ্ঠানগুলির আয়োজন করেছে। সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টায় ১৪৩১ সনকে বিদায় দিয়ে বর্ষশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। আগামীকাল, মঙ্গলবার, ভোর পাঁচটায় বৈতালিক, সকাল সাতটায় বর্ষবরণের উপাসনার আয়োজন করা হয়েছে। তবে বর্ষবরণের মূল অনুষ্ঠানটি সকাল ন’টায়, শান্তিনিকেতনের মাধবীবিতানে হবে। সন্ধ্যায় পাঠভবনের কচিকাঁচারা রবীন্দ্র নৃত্যনাট্য ‘শ্যামা’ পরিবেশন করবে গৌরপ্রাঙ্গণে।
ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যে ক’টি ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান রয়েছে তার মধ্যে বর্ষশেষ ও বর্ষবরণ অন্যতম। যথাযথ মর্যাদায় তা পালন করা হবে। উভয় দিনের অনুষ্ঠানেই সঙ্গীত পরিবেশন করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত ভবনের অধ্যাপক, অধ্যাপিকা ও পড়ুয়ারা। আবৃত্তি ও পাঠে অংশগ্রহণ করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা। বর্ষশেষের মাধ্যমে পুরনো বছরকে বিদায় জানানো হবে এবং বর্ষবরণের মাধ্যমে সকলে একসঙ্গে নতুন বছরকে স্বাগত জানাবেন। বিশ্বভারতীর এই ঐতিহ্যপূর্ণ বর্ষশেষ ও বর্ষবরণ অনুষ্ঠান প্রতি বছরই আশ্রম প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে। এই বছরও তার ব্যতিক্রম হবে না বলে আশা করা যায়। সকলে মিলিত হয়ে বাংলা নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর জন্য আমরা আগ্রহে অপেক্ষা করছি। এই আনন্দময় অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, শিক্ষাকর্মী এবং আশ্রমবাসী সকলেই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন