কেরলকে হারিয়ে শেষ চারে মোহন বাগান - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

রবিবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২৫

কেরলকে হারিয়ে শেষ চারে মোহন বাগান

কেরলকে হারিয়ে শেষ চারে মোহন বাগান

মোহন বাগান-২           :        কেরল ব্লাস্টার্স- ১
(সাহাল, সুহেল)                             (শ্রীকুট্টন)

কলকাতা: কলকাতার দুই প্রধানের মধ্যে পার্থক্য যে আকাশ-পাতাল তা প্রমাণ করল কেরল ব্লাস্টার্স। দিন ছয়েক আগেই নাকানিচোবানি খাইয়ে তারা হারায় ইস্ট বেঙ্গলকে। অস্কার ব্রুজোঁর ভাগ্য ভালো যে, ব্যবধান দু’গোলের বেশি হয়নি। মনে রাখতে হবে, সেদিন পাঁচ বিদেশি খেলিয়েছিলেন লাল-হলুদ কোচ। কিন্তু শনিবার ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়ামে সেই কেরলকে সহজেই বশ মানিয়ে সুপার কাপের শেষ চারে মোহন বাগান। আগামী ৩০ এপ্রিল সেমি-ফাইনালে মোহন বাগানের প্রতিপক্ষ এফসি গোয়া। 
এই সবুজ-মেরুন ব্রিগেডে রয়েছেন মাত্র একজন বিদেশি, নুনো রেইজ। আর সিনিয়র দল থেকে নেওয়া হয়েছে সাহাল আব্দুল সামাদ, আশিক কুরুনিয়ান ও দীপ্যেন্দু বিশ্বাসকে। বাকিরা অনভিজ্ঞ। তা সত্ত্বেও কেরলকে হারাতে অসুবিধা হয়নি পালতোলা নৌকার। ম্যাচের পর সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটে এক মোহন বাগানীর টিপ্পনি, ‘আজ ইস্ট বেঙ্গলকে হারানোর বদলা নিলাম।’ 
শনিবার মোহন বাগানের জয়ের রসায়ন কী? তাগিদ, হার না মানা মানসিকতা এবং টিমগেম। সিনিয়র দলের মতোই এদিন ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে দল সাজিয়েছিলেন কোচ বাস্তব রায়। দীপক টাংরি, সাহাল, আশিকরা মাঝমাঠ কব্জায় নিতেই চাপে পড়ল কেরল। ২১ মিনিটে সাহাল জাল কাঁপালেও নেপথ্য কারিগর সালাউদ্দিন। ডান প্রান্তে গতির বিস্ফোরণ ঘটিয়ে বিপক্ষ বক্সে ঢুকে ছোট্ট চিপ করেন তিনি। হর্মিপমদের ঘাড়ে নিয়ে বল জালে জড়ান সাহাল (১-০)। চোটের কারণে বেশিরভাগ সময় ভুগতে হয়েছে তাঁকে। এদিন পুরনো দলের বিরুদ্ধে গোল সাহালকে অবশ্যই স্বস্তি দেবে। আলাদা করে বলতেই হবে ম্যাচের সেরা সালাউদ্দিনের কথা। ডেভেলপমেন্ট লিগে মুথুট এফসি’র হয়ে নজর টানেন তিনি। কালবিলম্ব না করে কেরালাইট ফুটবলারকে তুলে নেয় মোহন বাগান টিম ম্যানেজমেন্ট। এই সালাউদ্দিন ম্যাচ টাইম পেলে দাঁড়িয়ে যাবেন। আশিক, সাহাল আর সালাউদ্দিন-কেরলের তিন ফুটবলারই শেষ করে দিলেন দক্ষিণের ফ্র্যাঞ্চাইজিকে। পাশাপাশি নুনো রেইজকে দেখেও আশ্বস্ত থিঙ্কট্যাঙ্ক। বঙ্গসন্তান দীপ্যেন্দুকে নিয়ে তিনি সামাল দিলেন দুর্গ। অন্যদিকে আমনদীপ ও আশিকের জোনাল মার্কিংয়ের জাঁতাকলে হাঁসফাঁস করলেন বিপজ্জনক নোয়া সাদিউ। বাধ্য হয়ে জায়গা বদলে করে লেফট উইং হাফে সরিয়ে আনতে হয় তাঁকে।
সুপার কাপে নক-আউট ম্যাচ। নব্বই মিনিটে ফয়সালা না হলে সরাসরি টাই-ব্রেকার। গোল শোধের জন্য তাই মরিয়া ছিল ডেভিড কাতালার দল। তেড়েফুঁড়ে দ্বিতীয়ার্ধ শুরু করেও ফের ধাক্কা খায় কেরল। ম্যাচের ৫১ মিনিটে ছবির মতো মুভমেন্ট থেকে দ্বিতীয় গোল সুহেল ভাটের। এক্ষেত্রে বাঁ দিকে বল পেয়েছিলেন আশিক কুরুনিয়ান। বিপক্ষের হর্মিপমকে মাটি ধরিয়ে মাপা মাইনাস করেন তিনি। শিকারি বেড়ালের মতো ওত পেতে থাকা সুহেল ভাট জাল কাঁপাতে ভুল করেননি (২-০)। কাশ্মীরে জঙ্গি হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে গোল উৎসর্গ করলেন সুহেল। চল্লিশের সুনীলকে জামাই আদরে ফিরিয়ে না এনে এই সুহেল, ডেভিডদের সুযোগ দিলে আখেরে লাভ হবে ভারতীয় ফুটবলেরই। সেটা আর কবে বুঝবেন ফেডারেশন কর্তারা? যাই হোক, দু’গোলে পিছিয়ে পড়ার পর পেফরাকে নামিয়ে দেন কেরল কোচ। তিনি মাঠে আসার পর কিছুটা চাপ বাড়ালেন নোয়ারা। অন্তত দুটো সিটার নষ্ট করে কাঠগড়ায় স্প্যানিশ স্ট্রাইকার গিমিনেজ। শেষলগ্নে শ্রীকুট্টন ব্যবধান কমালেও লাভের লাভ কিছু হয়নি (২-১)। 
মোহন বাগান: ধীরাজ, সৌরভ, দীপ্যেন্দু, নুনো, আমনদীপ, টাংরি, অভিষেক, সালাউদ্দিন, সাহাল, আশিক ও সুহেল (গ্লেন মার্টিন্স)।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন