ঘাটাল: বাঙালি শৈশবেই পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের নামের সঙ্গে পরিচিত হয় ‘বর্ণপরিচয়’ বইয়ের মাধ্যমে। পরে ধীরে ধীরে তাঁর জীবনি ও সমাজ সংস্কারে অবদানের কথা জানতে পারে সবাই। কিন্তু, বিস্ময়ের বিষয়, বিদ্যাসাগরের জন্মস্থানে বসানো একটি সরকারি ফলকে তাঁর অমর কীর্তি ‘বর্ণপরিচয়’-এর বানানই ভুল করা হয়েছে। গত ২২ এপ্রিল বসানো ফলকে ‘বর্ণপরিচয়’-এর পরিবর্তে লেখা হয়েছে ‘বর্নপরিচয়’। বিষয়টি সামনে আসতেই ঘাটাল মহকুমাজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ঘাটাল রবীন্দ্র শতবার্ষিকী মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান কপোতাক্ষী শূর বলেন, বর্ণপরিচয় বানানে ‘র্ন’ অক্ষরটি খুবই অনাকাঙ্ক্ষিত। বিদ্যাসাগরের সঙ্গে ‘বর্ণপরিচয়’ শব্দটি ওতপ্রোতভাবে বাঙালির আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। তাই ওই অশুদ্ধ বানানটি চক্ষুপীড়াদায়ক তো বটেই, মনেও কষ্ট দেয়। ওখানে ভুল বানানটি না রাখাই ভালো।
ঘাটাল মহকুমার বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক তথা
দাসপুর-১ ব্লকের নন্দনপুর হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত বাংলার শিক্ষক উমাশঙ্কর
নিয়োগীর ব্যাখ্যায়, ‘বর্ণ’ শব্দটি তৎসম। তাই এখানে ‘র্ণ’ হবে। এর বানান
পরিবর্তন হয়ে ‘বর্ন’ হওয়া একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশেষ করে বিদ্যাসাগরের
জন্মস্থানে তাঁর সৃষ্টির এমন অমর পরিচয়ের বানান ভুল থেকে যাওয়া কখনওই মেনে
নেওয়া যায় না। বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান যাওয়ার সিংডাঙা-খড়ার রাস্তার উপর
পরপর দু’টি গেট তথা তোরণের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বীরসিংহে একটি ফলক
তৈরি হয়। গত ২২ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী মেদিনীপুর থেকে ওই গেট দু’টি
ভার্চুয়ালি উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে ফলকের পর্দাটিও খুলে দেওয়া হয়। বীরসিংহের
ভগবতী বিদ্যালয়ের হস্টেলের সামনে তৈরি ওই ফলকটিতেই ‘বর্ণপরিচয়’ বানানটি
ভুল রয়েছে।
বিষয়টি প্রথমের দিকে কেউ সেভাবে লক্ষ্য করেননি। কিন্তু,
উদ্বোধনের পর ওই এলাকায় বহু মানুষ গেট দেখার জন্য যাচ্ছেন এবং বীরসিংহে
বিদ্যাসাগরের জন্মস্থান ঘুরে আসছেন। সেই সমস্ত পর্যটকের চোখেই ফলকে লেখা
‘বর্ণপরিচয়’-এর ভুল বানানটি চোখে পড়ায় বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বাঁকুড়ার
বিষ্ণুপুর থেকে আসা এক পর্যটক অরবিন্দ সেনগুপ্ত রবিবার ওই ফলক দেখে
আক্ষেপের সঙ্গে বলেন, ফলকটির পাশেই বিদ্যাসাগরের নিজের হাতে প্রতিষ্ঠিত
একটি হাইস্কুল রয়েছে। সেখানেও বাংলা সহ বহু শিক্ষক-শিক্ষিকা রয়েছেন, তাঁদের
চোখে এই ভুলটি আগে পড়া উচিত ছিল।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন